নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের দুই দিন পর একই পরিবারের তিন ভাই-বোনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহগুলো উদ্ধার করেন ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও নৌ পুলিশ।
নিহতরা হলেন—কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামের হেলাল উদ্দিনের বড় ছেলে সজিব (২২), মেয়ে সামিয়া (১৮) এবং ছোট ছেলে শামীম (৬)।
শনিবার দুপুর ১২টার দিকে নিহত তিন ভাই-বোনের মরদেহ কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমদ্দি গ্রামে নেওয়া হয়। মরদেহ বাড়িতে পৌঁছালে স্বজনদের আহাজারিতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।
পরে স্থানীয় মাঠে জানাজা শেষে চরেরগাঁও কবরস্থানে তিন ভাই-বোনকে পাশাপাশি দাফন করা হয়। এ সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষে সহকারী কমিশনার (ভূমি) নুসরাত জাবিনসহ স্থানীয়রা উপস্থিত ছিলেন।
হোমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) টমাস বড়ুয়া জানান, উদ্ধার হওয়া তিনজনের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের পর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। তবে এ ঘটনায় হেলাল উদ্দিন নামে আরও একজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তার সন্ধানে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লার হোমনা থেকে আত্মীয়ের বিয়েতে যাওয়ার পথে ১৪ জন যাত্রী নিয়ে একটি ট্রলার মেঘনা নদীতে দুর্ঘটনার কবলে পড়ে। বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের সোনামই এলাকায় আমান সিমেন্ট কারখানার সংলগ্ন নদীতে প্রবল স্রোতের মধ্যে ট্রলারটি উল্টে যায়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে সোনারগাঁ ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি দল এবং নৌ পুলিশ উদ্ধার অভিযান শুরু করে। অভিযানের একপর্যায়ে নদীর তলদেশ থেকে ডুবে যাওয়া ট্রলারটি উদ্ধার করা হয়। দুর্ঘটনার দিন রায়েশা বেগম (৫৫) নামে আরও এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
এ ঘটনায় তিন ভাই-বোনসহ এখন পর্যন্ত চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিখোঁজ হেলাল উদ্দিনের সন্ধানে উদ্ধার তৎপরতা চলছে।



