সরকারি প্রকল্পে দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতি ঠেকাতে টাস্কফোর্স কাজ করছে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের ঘাটঘর এলাকায় প্রধানমন্ত্রীর সফরস্থল পরিদর্শনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, একনেকে কোনো প্রকল্প অনুমোদনের সময় সেটি কতটা টেকসই হবে এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারবে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কারিগরি কর্মকর্তারা বিশ্লেষণ করেন।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিভিন্ন প্রকল্পের অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী প্রতি মাসে একবার প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি নিয়ে সভা করেন। পাশাপাশি টাস্কফোর্স প্রতি মাসে দুবার বৈঠক করে প্রকল্পগুলো পর্যালোচনা করছে।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, এসব পর্যালোচনায় প্রকল্পের কাজে দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি হচ্ছে কি না এবং কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে কি না—এসব বিষয় তদারকি করে প্রতিবেদন দেওয়া হচ্ছে।
বিগত সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, এর আগে বিভিন্ন সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হলেও তা মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজে লাগেনি। ফলে বাঁধের কাজ কতটা টেকসই হবে, তা নিয়ে স্থানীয় মানুষের মধ্যে এখনো শঙ্কা রয়েছে।
প্রকল্প বাস্তবায়নে স্থানীয় জনগণের সম্পৃক্ততার ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, শুধু প্রকৌশলী বা ঠিকাদারের ওপর নির্ভর করলে হবে না। স্থানীয় মানুষকে প্রকল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে হবে। কারণ প্রকল্পের সুবিধা-অসুবিধা স্থানীয় জনগণই নিয়মিত অনুভব করবেন।
তিনি বলেন, প্রকল্পের কাজ যথাযথভাবে হচ্ছে কি না, তা স্থানীয়দেরও নজরদারি করতে হবে।
উল্লেখ্য, ফেনীকে আকস্মিক বন্যা থেকে রক্ষায় ‘ফেনী জেলাধীন মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন (প্রথম পর্যায়)’ শীর্ষক ১ হাজার ৫৪২ কোটি টাকার প্রকল্প গত ১৬ জুন একনেকে অনুমোদন হয়। প্রকল্পের আওতায় বাঁধ পুনর্বাসন, নদীতীর সংরক্ষণ ও নদী-জলাধার পুনঃখননসহ বিভিন্ন কাজ করার কথা রয়েছে।



