ডেঙ্গু প্রতিরোধে সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিয়ে ঘরবাড়ি, আশপাশের এলাকা ও চলাচলের পথ পরিষ্কার রাখার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেছেন, সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করলে ডেঙ্গু প্রতিরোধের মাধ্যমে বহু মানুষের প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব।
ভিডিওবার্তায় দেশবাসীর উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আজকে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আমি আপনাদের সামনে একটু আলাপ করতে চাই। একই সঙ্গে এই সমস্যাটির কিছুটা হলেও সমাধান করার জন্য আপনাদের সহযোগিতা দরকার।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালে সবাই মিলে দেশ স্বাধীন করেছেন। ১৯৯০ সালে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণে সফল হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করা সম্ভব হলে দেশের অন্যান্য সমস্যার সমাধানেও সবাই মিলে অবদান রাখা সম্ভব বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংবাদমাধ্যমে প্রায়ই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে বিভিন্ন বয়সী মানুষের মৃত্যুর খবর দেখা যায়। প্রিয়জন হারানোর কষ্ট যাঁরা ভোগ করেন, তাঁরাই সেই বেদনা উপলব্ধি করতে পারেন। সবাই সম্মিলিতভাবে চেষ্টা করলে অনেক মানুষকে এমন কষ্ট থেকে রক্ষা করা সম্ভব।
শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যদের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় আড়াই কোটি। এর বাইরে বিএনসিসি, স্কাউটস, গার্ল গাইড ও রেড ক্রিসেন্টের সদস্যদের সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা প্রায় এক মাস ধরে প্রতি শনিবার দেশের জেলা ও উপজেলাগুলোতে যতটা সম্ভব ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করার চেষ্টা করছেন।
ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার প্রজননস্থল সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঘরের আনাচকানাচে, রাস্তাঘাটে কিংবা ময়লা-আবর্জনার মধ্যে জমে থাকা পানিতে এ মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই জমে থাকা পানি ও আবর্জনা পরিষ্কার করা ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
ডেঙ্গুর টিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একটি টিকা আবিষ্কৃত হলেও বিভিন্ন পরীক্ষায় সেটির কার্যকারিতা নিয়ে সীমাবদ্ধতা দেখা গেছে। তাঁর মতে, ডেঙ্গু প্রতিরোধে মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মানুষ ও পরিবার যেন সপ্তাহে অন্তত দুই দিন আধা ঘণ্টা থেকে এক ঘণ্টা সময় দিয়ে ঘরবাড়ি, আশপাশের পরিবেশ এবং চলাচলের পথে যেসব স্থানে ডেঙ্গুর মশা জন্ম নিতে পারে, সেসব জায়গা পরিষ্কার করেন। এতে এডিস মশার বংশবিস্তার রোধ করা সম্ভব হবে।
ভিডিওবার্তার শেষদিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি সরকার তখনই সফল হয়, যখন সবাইকে সঙ্গে নিয়ে দেশের জন্য কাজ করতে পারে। তাঁর সরকার দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্ন সমস্যার সমাধান করতে চায় বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সমস্যার সমাধান মানে সবার সমস্যার সমাধান। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে ডেঙ্গুর কারণে আরও অনেক মানুষের প্রাণহানি রোধ করা সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।



