অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সারা হোসেন বলেছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে গঠিত জাতীয় ঐকমত্য কমিশনকে কোনোভাবেই গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বলা যায় না। তাঁর মতে, এটি একটি বাছাইকৃত বা “সিলেক্টিভ” প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছে, যেখানে সীমিত কিছু মানুষকে নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সংস্কার: সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা, আদালতের নির্দেশনা ও জনআকাঙ্ক্ষা’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে তিনি এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)।
সারা হোসেন বলেন, ঐকমত্য কমিশনে কোনো নারী সদস্য ছিলেন না, একইভাবে বিচারব্যবস্থা সংস্কার কমিশনেও নারী আইনজীবী বা বিচারপতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি—যা নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন।
তিনি আরও বলেন, গণভোটের বিভিন্ন প্রশ্ন ও প্রস্তাব সম্পর্কে সাধারণ মানুষের পরিষ্কার ধারণা ছিল না। অনেকেই জানেন না ভোটে আসলে কী বিষয়ে মত দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বিচার বিভাগ সংক্রান্ত বিভিন্ন অধ্যাদেশ নিয়েও কথা বলেন এই জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। তিনি সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় ও বিচারক নিয়োগ সংক্রান্ত অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া কিছু সিদ্ধান্ত পুনর্বহালের পক্ষে মত দেন।
আলোচনায় অতীত ও সাম্প্রতিক বিচার বিভাগ সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনাও উঠে আসে। সাবেক প্রধান বিচারপতি নিয়োগ ও অপসারণ সংক্রান্ত বিতর্কসহ বিভিন্ন প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোনো জবাবদিহি হয়নি এবং নাগরিক সমাজও এ নিয়ে পর্যাপ্ত ভূমিকা রাখেনি।
গোলটেবিল বৈঠকে আরও উপস্থিত ছিলেন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এম এ মতিন, বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী, আইনজীবী ইমরান সিদ্দিকী, ফাহিম মাশরুরসহ অনেকে। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার।



