অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌরশহরে উপবৃত্তির ফরম পূরণের প্রলোভন দেখিয়ে এক মাদ্রাসার ছাত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে প্রতিষ্ঠানটির এক আরবি প্রভাষকের বিরুদ্ধে।
সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর পৌর এলাকার ইসহাকপুরে অবস্থিত আল জান্নাত ইসলামিক এডুকেশন ইনস্টিটিউট কামিল মাদ্রাসায় গত শনিবার (২ মে, ২০২৬) এই ন্যক্কারজনক ঘটনাটি ঘটে। অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম সামসুল হুদা, যিনি ওই মাদ্রাসার আরবি প্রভাষক হিসেবে কর্মরত। তিনি কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার বড়বাম গ্রামের মাওলানা আলী নওয়াবের ছেলে। ঘটনার দিন মাদ্রাসা বন্ধ থাকলেও অভিযুক্ত শিক্ষক উপবৃত্তির কাজ আছে বলে আলিম প্রথম বর্ষের ওই ছাত্রীকে মাদ্রাসায় ডেকে আনেন। এরপর শিক্ষক মিলনায়তনের নির্জন পরিবেশের সুযোগ নিয়ে তিনি ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করেন। ভুক্তভোগী ছাত্রীটি কোনোভাবে নিজেকে রক্ষা করে সেখান থেকে পালিয়ে বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্যদের বিস্তারিত জানায়।
এই ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় এলাকায় তীব্র উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। শনিবার সন্ধ্যায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী অভিযুক্ত শিক্ষক সামসুল হুদাকে আটক করে গণধোলাই দেয়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্থানীয় সূত্র থেকে জানা গেছে, ২০১৫ সালে ওই মাদ্রাসায় যোগদানের পর থেকেই তার বিরুদ্ধে নৈতিক স্খলনের নানা অভিযোগ ছিল। মুঠোফোনে আপত্তিকর কর্মকাণ্ডের দায়ে তাকে একবার সাময়িক বরখাস্ত করা হলেও ২০১৮ সালে রাজনৈতিক বা পরিচালনা পর্ষদের হস্তক্ষেপে তিনি পুনরায় চাকরি ফিরে পান।
মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মো. শহিদুল ইসলাম নিজামী জানিয়েছেন, ঘটনার সময় মাদ্রাসার অন্য কোনো শিক্ষক উপস্থিত ছিলেন না। বর্তমানে শিক্ষক হাসপাতালে থাকায় এবং পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ছাড়া তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার অরূপ কুমার রায় ঘটনাটি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, অভিযুক্ত শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে এবং বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ইসলাম উদ্দিনও অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে মাদ্রাসার স্বাভাবিক কার্যক্রম স্থগিত রয়েছে এবং এলাকায় পুলিশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।



