অল ক্রাইমস. টিভি ডেস্ক
পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে উচ্চশিক্ষিত হয়ে মেয়েটি একদিন দেশে ফিরবেন—এমন স্বপ্ন নিয়েই হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে হাসিমুখে বিদায় দিয়েছিলেন বাবা–মা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একই বিমানবন্দর থেকেই এবার কফিনবন্দি নিথর মরদেহ গ্রহণ করতে হলো তাদের। জীবন্ত, স্বপ্নবাজ সেই মেয়েকেই এখন বিশেষায়িত অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ি মাদারীপুরে নিয়ে যেতে হচ্ছে স্বজনদের।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ বিশেষায়িত সরকারি অ্যাম্বুলেন্সে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাদারীপুরের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়। হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে মরদেহবাহী গাড়িটি গ্রামের বাড়ির পথে রওনা দেয়।
এ সময় বৃষ্টির বাবা, মা, ভাই, মামা, নানা ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। কফিন গ্রহণের পর স্বজনদের অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। কেউ কেউ কফিন ছুঁয়ে শেষবারের মতো বৃষ্টিকে বিদায় জানান। মায়ের আহাজারিতে বিমানবন্দরের পরিবেশ ভারী হয়ে ওঠে। বারবার তিনি কাঁদতে কাঁদতে মেয়ের নাম ধরে ডাকছিলেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্সটি বিমানবন্দর এলাকা ত্যাগ করার সময় পরিবারের সদস্যদের কান্না ও আহাজারিতে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
এর আগে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে দুবাই হয়ে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকায় পৌঁছায়। মরদেহ গ্রহণ করতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন তার মা–বাবাসহ পরিবারের সদস্যরা।
এ সময় পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে নিহত শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত ও যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার কাজ করছে। এ ঘটনায় মার্কিন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মরদেহ সরাসরি মাদারীপুরের গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হবে। সেখানে বাদ আসর নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। পরে দাদা–দাদির কবরের পাশে তাকে দাফন করা হবে।
ফ্লোরিডার অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার রাতে এমিরেটসের একটি ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকার উদ্দেশ্যে পাঠানো হয়। দুবাইয়ে যাত্রাবিরতির পর আরেকটি ফ্লাইটে মরদেহ ঢাকায় পৌঁছে। মরদেহ বিমানে তোলার সময় অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।



