অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
আসন্ন ঈদুল আজহায় ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন করতে শতভাগ অগ্রিম টিকিট অনলাইনে বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ রেলওয়ে। আগামী ১৩ মে থেকে ঈদের অগ্রিম টিকিট এবং ২১ মে থেকে ফিরতি যাত্রার টিকিট শুধুমাত্র ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে পাওয়া যাবে।
গত ৫ মে রেলভবনের সম্মেলন কক্ষে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ফাহিমুল ইসলামের সভাপতিত্বে এক প্রস্তুতিমূলক সভায় এই সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সভায় রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রহমানসহ রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ১৩ মে বিক্রি হবে ২৩ মে’র যাত্রার টিকিট। পর্যায়ক্রমে ১৪ থেকে ১৭ মে পর্যন্ত ২৪, ২৫, ২৬ ও ২৭ মে’র টিকিট অনলাইনে ছাড়া হবে। ফিরতি যাত্রার ক্ষেত্রে ৩১ মে থেকে ৪ জুনের টিকিট বিক্রি হবে ২১ থেকে ২৫ মে পর্যন্ত। পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টায় এবং পূর্বাঞ্চলের টিকিট দুপুর ২টা থেকে অনলাইনে কেনা যাবে। একজন যাত্রী সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন, যা ফেরতযোগ্য হবে না। তবে যাত্রার দিন মোট আসনের ২৫ শতাংশ ‘দাঁড়িয়ে যাওয়ার’ টিকিট স্টেশন কাউন্টার থেকে সংগ্রহ করা যাবে।
ঈদ উপলক্ষে রেলওয়ে ৫ জোড়া বিশেষ ট্রেন এবং কোরবানির পশু পরিবহনের জন্য ৩টি ‘ক্যাটেল স্পেশাল’ ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা করেছে। বিশেষ ট্রেনগুলো চাঁদপুর, দেওয়ানগঞ্জ, কিশোরগঞ্জ ও পার্বতীপুর রুটে চলাচল করবে। শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল ট্রেন দুটি শুধুমাত্র ঈদের দিন চলবে। পশুবাহী ট্রেনগুলো দেওয়ানগঞ্জ বাজার ও ইসলামপুর বাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করবে, যাতে ২৬টি করে কোচ থাকবে। এছাড়া ২৩ মে থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত সব আন্তঃনগর ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি (অফ-ডে) বাতিল করা হয়েছে।
যাত্রী নিরাপত্তা ও টিকিট কালোবাজারি রোধে রেলওয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ঢাকা ও বিমানবন্দর স্টেশনে র্যাব ও পুলিশের নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপনসহ জিগজ্যাগ বেষ্টনী তৈরি করা হবে যাতে টিকিট ছাড়া কেউ প্রবেশ করতে না পারে। ট্রেনের ছাদে ভ্রমণ ঠেকাতে খিলগাঁও ও আশকোনায় বিশেষ ক্যাম্প স্থাপন করা হবে। টিকিট কালোবাজারি নজরদারিতে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি রেলওয়ের একটি ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ চালু করা হচ্ছে। কোনো রেলকর্মী অনিয়মে জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া যাত্রীদের সহায়তায় কল সেন্টার ‘১৩১’ সার্বক্ষণিক সক্রিয় থাকবে।



