নিজস্ব প্রতিবেদক
আসন্ন ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চট্টগ্রামে সড়ক, মহাসড়ক ও রেললাইনের পাশে গরুর হাট বসানো যাবে না বলে কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা। একই সঙ্গে ফেরিঘাটে যাত্রী নিরাপত্তা নিশ্চিত, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান জোরদার এবং উৎসবকেন্দ্রিক দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তিনি।
রোববার (১০ মে) চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, রাজনৈতিক মামলা সংক্রান্ত প্রায় ২০০টি মামলার নিষ্পত্তির প্রস্তাব গত মাসেই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সড়ক দুর্ঘটনা ও জনদুর্ভোগ এড়াতে সবাইকে সতর্কভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সড়ক দুর্ঘটনার পুনরাবৃত্তি যেন না হয়, সে জন্য প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, রাস্তা, মহাসড়ক কিংবা রেললাইনের পাশে কোনো অবস্থাতেই গরুর হাট বসানো যাবে না। যানজট ও জনদুর্ভোগ এড়াতে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে কঠোর অবস্থানে থাকতে হবে। কর্ণফুলী এলাকার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জায়গাসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে কোনো পশুর হাট বসতে দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
ফেরি পারাপারে নিরাপত্তার বিষয়েও বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন জেলা প্রশাসক। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী কুমিরা–গুপ্তছড়া ও সন্দ্বীপ রুটসহ সব ফেরিঘাটে বাস বা ট্রাক ফেরিতে ওঠার আগে সব যাত্রীকে নামিয়ে নিরাপদভাবে পারাপার নিশ্চিত করতে হবে। এ বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতে ফেরিঘাট এলাকায় নির্দেশনামূলক ব্যানার টানানোর কথাও বলেন তিনি।
সভায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে বিশেষ অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। চট্টগ্রামের বিভিন্ন এলাকায় সাম্প্রতিক সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়—এমন কোনো পরিস্থিতি চলতে দেওয়া যাবে না। সন্ত্রাস, অস্ত্রের মহড়া, চাঁদাবাজি ও মাদককারবার কঠোর হাতে দমন করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, উন্নত বিশ্বের মতো উৎসবের সময় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর সংস্কৃতি চালু করা প্রয়োজন। ঈদকে কেন্দ্র করে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে ব্যবসায়ীসহ সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
সভায় চট্টগ্রাম জেলার গত মাসের সার্বিক অপরাধচিত্র পর্যালোচনা করা হয়। আলোচনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ঈদুল আজহা সুষ্ঠুভাবে উদযাপন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, চোরাচালান দমন ও যানজট নিরসনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়।
নতুন ব্রিজ এলাকা ও চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কে যানজট কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়। বিভিন্ন বক্তা বলেন, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা গেলে যানজট অনেকাংশে কমবে। রাস্তার ওপর বাজার ও দোকান বসানো এবং যেখানে–সেখানে সিএনজিচালিত অটোরিকশা দাঁড় করানো বন্ধ করতে হবে।
বিভিন্ন বক্তার বক্তব্যের জবাবে পুলিশ সুপারের প্রতিনিধি বলেন, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, মাদক পাচার ও সেবনকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসায়ী ও দুর্বৃত্তদের তালিকা প্রস্তুত করে জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সভায় আরও বলা হয়, আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি বা যানজট তৈরি করে জনজীবন অচল করা যাবে না। চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি অনুসরণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি রাজনৈতিক পরিচয় ব্যবহার করে চাঁদাবাজি করলে তার বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ছাড়া ঈদ উপলক্ষে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়কারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে জেল–জরিমানার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানানো হয়। শ্রমিকদের ঈদের আগে বেতন–বোনাস পরিশোধে মালিকপক্ষকে অনুরোধ জানানো হয়।
সভায় উপস্থিত ছিলেন জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির উপদেষ্টা ও সংসদ সদস্য নুরুল আমিন, সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী, সংসদ সদস্য এরশাদউল্লাহ, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ এনামুল হক, সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী, সংসদ সদস্য মোহাম্মদ জহিরুল ইসলামসহ জেলা পুলিশ, সিএমপি, নৌবাহিনী, এনএসআই, বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা।



