অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
লিওনেল মেসি ২০২৬ মৌসুমে যে পরিমাণ বেতন পাচ্ছেন, তা আমেরিকান মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) ৩০টি দলের মধ্যে ২৮টি দলের পুরো স্কোয়াডের মোট বেতনের চেয়েও বেশি।
আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি ইন্টার মায়ামিতে যোগ দেওয়ার পর থেকে লিগটির জনপ্রিয়তা ও অর্থনৈতিক অবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। ২০২৬ মৌসুমের জন্য এমএলএস প্লেয়ার্স অ্যাসোসিয়েশন প্রকাশিত বেতন তালিকায় দেখা গেছে, মেসির আয় এখন লিগের প্রায় সব দলের সম্মিলিত খরচের চেয়েও বেশি। নতুন চুক্তিতে মেসির মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার (প্রায় ৩০৭ কোটি ৩৫ লাখ টাকা) এবং তার মোট গ্যারান্টিযুক্ত পারিশ্রমিক দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৮৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৩৩ ডলারে (প্রায় ৩৪৮ কোটি ৩৩ লাখ টাকা)। এর আগে ২০২৩ সালে পিএসজি ছেড়ে যখন তিনি মায়ামিতে যোগ দেন, তখন তার মূল বেতন ছিল ১ কোটি ২০ লাখ ডলার। গত অক্টোবরে তিনি ২০২৮ সাল পর্যন্ত নতুন চুক্তিতে সই করার পর তার এই আয় আকাশচুম্বী হয়েছে।
মেসির এই বিশাল পারিশ্রমিকের প্রভাবে ইন্টার মায়ামির বেতন খাতের মোট ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। গত বছর ক্লাবটি খেলোয়াড়দের বেতনে ৪ কোটি ৬৮ লাখ ডলার খরচ করলেও বর্তমানে তা বেড়ে ৫ কোটি ৪৬ লাখ ডলারে দাঁড়িয়েছে। তালিকার দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা লস অ্যাঞ্জেলেস এফসি খরচ করছে ৩ কোটি ২৭ লাখ ডলার, আর সর্বনিম্ন ১ কোটি ১৭ লাখ ডলার ব্যয় করছে ফিলাডেলফিয়া ইউনিয়ন। বর্তমানে এমএলএসে মেসির পরেই সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক পাচ্ছেন দক্ষিণ কোরিয়ান তারকা সন হিউং-মিন, তবে মেসির আয় তার চেয়েও দ্বিগুণের বেশি। মেসির এই আয়ের হিসেবে বিপণন বোনাস ও এজেন্ট ফি অন্তর্ভুক্ত থাকলেও অন্যান্য অতিরিক্ত বাণিজ্যিক চুক্তি বা পারফরম্যান্স বোনাস যুক্ত করা হয়নি।
মাঠের পারফরম্যান্সেও ৩৯ বছর ছুঁইছুঁই মেসি সমানভাবে উজ্জ্বল। আগামী মাসে নিজের ৩৯তম জন্মদিনের প্রাক্কালে তিনি ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ইন্টার মায়ামির হয়ে এখন পর্যন্ত নিয়মিত মৌসুমে ৬৪ ম্যাচে ৫৯টি গোল করেছেন তিনি, যার মধ্যে চলতি মৌসুমে ১১ ম্যাচে করেছেন ৯টি গোল। গত মৌসুমে ২৯ গোল করে তিনি লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার পাশাপাশি টানা দ্বিতীয়বার ‘মোস্ট ভ্যালুয়েবল প্লেয়ার’ (এমভিপি) পুরস্কার জিতে নিয়েছেন। তার নেতৃত্বেই ইন্টার মায়ামি তাদের ইতিহাসের প্রথম এমএলএস শিরোপা ঘরে তুলতে সক্ষম হয়।



