অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
কক্সবাজারের টেকনাফে রোহিঙ্গা ক্যাম্পে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই সন্ত্রাসী গ্রুপের গোলাগুলিতে হাসান আহমেদ ওরফে ‘কালা হাসান’ (৪৫) নামে এক রোহিঙ্গা নিহত হয়েছেন।
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার নয়াপাড়া রেজিস্টার্ড রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নিহত হাসান আহমেদ ওই ক্যাম্পের সুলতান আহমেদের ছেলে। শুক্রবার (১৫ মে) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ১৬ আমর্ড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার। এর আগে বৃহস্পতিবার রাতে ক্যাম্পের এইচ-ব্লকে সশস্ত্র দুই সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর মধ্যে এই গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের তথ্যমতে, রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সক্রিয় ‘জকির’ গ্রুপ এবং ‘সাদ্দাম’ গ্রুপের মধ্যে দীর্ঘদিনের আধিপত্য বিস্তারের লড়াই চলছে। এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার রাতে উভয় পক্ষ সশস্ত্র সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। গোলাগুলির একপর্যায়ে হাসান আহমেদ গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় রোহিঙ্গারা তাকে দ্রুত উদ্ধার করে ক্যাম্প সংলগ্ন জিকে হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ কাউছার সিকদার জানান, খবর পাওয়া মাত্রই এপিবিএন পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা অলিগলি দিয়ে দ্রুত পালিয়ে যায়, যার ফলে তাৎক্ষণিকভাবে কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে টেকনাফ থানা পুলিশ নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতাল মর্গে প্রেরণ করেছে। বর্তমানে ওই ক্যাম্প এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের চিহ্নিত করে গ্রেফতারে বিশেষ অভিযান চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



