গাজীপুরের শ্রীপুরে নেশার টাকা ও পারিবারিক কলহের জেরে বাবা আব্দুস সামাদকে লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় ছেলে আনোয়ার হোসেনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন স্থানীয়রা।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার একটি প্রতিবেশীর বাড়িতে মোবাইল ফোন চার্জ দিতে গেলে স্থানীয়রা তাকে দেখতে পান। পরে পালানোর চেষ্টা করলে ধাওয়া করে তাকে আটক করা হয়। শ্রীপুর থানার পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম মঙ্গলবার রাতে জানান, বাবাকে হত্যার ঘটনায় স্থানীয়রা আনোয়ার হোসেনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছেন। তাকে থানায় নেওয়া হয়েছে। বুধবার তাকে আদালতে পাঠানো হবে বলে জানান তিনি।
নিহতের স্বজনদের ভাষ্য, বাবাকে হত্যার পর আনোয়ার আত্মগোপনে চলে যান। পুলিশ ও স্বজনরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাচ্ছিলেন না।
মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে আনোয়ার হঠাৎ এক প্রতিবেশীর বাড়িতে মোবাইল ফোন চার্জ দিতে যান। তাকে দেখতে পেয়ে বাড়ির লোকজন স্থানীয়দের খবর দেন। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে তিনি দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পরে স্থানীয়রা ধাওয়া করে তাকে আটক করে একটি গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখেন এবং পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে থানায় নিয়ে যায়।
এর আগে, গত রোববার (২৬ অক্টোবর) ভোর ৫টার দিকে শ্রীপুর উপজেলার সাইটালিয়া গ্রামে নেশার টাকা নিয়ে বিরোধ ও পারিবারিক কলহের জেরে আব্দুস সামাদকে লাঠি দিয়ে মাথা ও বুকে এলোপাতাড়ি আঘাত করার অভিযোগ ওঠে তার ছেলে আনোয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে। এতে আব্দুস সামাদের মৃত্যু হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং আলামত সংগ্রহ করে। পরে নিহতের ভাই কামরুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন। ঘটনার পর থেকে আনোয়ার পলাতক ছিলেন।



