পরীক্ষামূলক সংস্করণ

মিথ্যা ধর্ষণ মামলার বলি: মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে হাসপাতালের বিছানায় সেই ইমাম

অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক

মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগে কারাভোগ এবং সামাজিক লাঞ্ছনার শিকার ফেনীর ইমাম মোজাফফর আহমদ (২৫) বর্তমানে তীব্র মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন এবং তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়েছে।

নির্দোষ প্রমাণিত হওয়ার পরও কাটেনি ইমাম মোজাফফরের জীবনের কালো মেঘ। ফেনীর পরশুরাম উপজেলার এই ইমাম এক মাস চার দিন কারাভোগের পর মুক্তি পেলেও কারাজীবনের সেই দুঃসহ স্মৃতি এবং মিথ্যা অপবাদের মানসিক চাপ তাকে ঠেলে দিয়েছে চরম বিপর্যয়ের মুখে। শুক্রবার (১৫ মে) জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজার মাধ্যমে জানা যায়, মোজাফফর আহমদ বর্তমানে গুরুতর ‘সাইকোসিস’ বা মানসিক ভারসাম্যহীনতার শিকার। কারাগারে থাকা অবস্থায় তিনি আত্মহত্যার চেষ্টাও করেছিলেন বলে জানা গেছে। মুক্তি পাওয়ার পর ছোট ভাইয়ের বাসায় অবস্থানকালে তিনি হঠাৎ উগ্র ও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠেন, ঘরের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন এবং স্বজনদের কামড়ে ও মারধর করে আহত করেন। পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় তাকে বেঁধে রেখে পুলিশের সহায়তায় হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এই ভয়াবহ ঘটনার সূত্রপাত হয় ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর, যখন পরশুরামের বক্সমাহমুদ ইউনিয়নের টেটেশ্বর গ্রামের এক কিশোরীর পরিবার মক্তব শিক্ষক মোজাফফরের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা করে। সেই মিথ্যা মামলায় ৩২ দিন জেল খাটার পাশাপাশি তিনি তার মসজিদের ইমামতি এবং ইসলামিক ফাউন্ডেশনের চাকরিও হারান। তবে পুলিশের আধুনিক তদন্ত ও সিআইডির ডিএনএ পরীক্ষায় বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর তথ্য। দেখা যায়, কিশোরীর গর্ভজাত সন্তানের ডিএনএর সঙ্গে মোজাফফরের কোনো মিল নেই। পরবর্তীতে তদন্তে জানা যায়, ওই কিশোরী তার আপন বড় ভাই মোরশেদ কর্তৃক দীর্ঘদিন ধরে যৌন নির্যাতনের শিকার হয়ে আসছিলেন। পরিবারের সম্মান বাঁচাতে এবং মূল অপরাধীকে আড়াল করতেই পরিকল্পিতভাবে নিরপরাধ ইমাম মোজাফফরকে ফাঁসানো হয়েছিল।

বৈজ্ঞানিক পরীক্ষায় শিশুটির ডিএনএর সঙ্গে তার মামা মোরশেদের ৯৯ দশমিক ৯৯ শতাংশ মিল পাওয়ায় মোরশেদকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গত ১৭ এপ্রিল পুলিশ আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়ে মোজাফফরকে মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করে। বর্তমানে প্রকৃত অপরাধী মোরশেদ কারাগারে থাকলেও মিথ্যা মামলার ঘানি টানতে গিয়ে ইমাম মোজাফফর এখন হাসপাতালের বিছানায় জীবনযুদ্ধ চালাচ্ছেন। চিকিৎসক ডা. সাঈদুল আশরাফুল কুশাল এই ভুক্তভোগী ইমামকে আজীবন বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। বর্তমানে তার জাতীয় পরিচয়পত্র ও আইনি অভিভাবক সংক্রান্ত জটিলতা কাটিয়ে তাকে একটি উন্নত হাসপাতালে স্থায়ীভাবে ভর্তি করার প্রক্রিয়া চলছে।

প্রধান খবর

স্পেনে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৪৬

স্পেনের তোলেদো প্রদেশে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ৩০ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বহু যাত্রী। উদ্ধারকাজ চলছে এবং নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আসছে...