অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
আর্জেন্টাইন ফুটবল কিংবদন্তি ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে চলমান বিচারিক প্রক্রিয়ায় এক চিকিৎসক আদালতে সাক্ষ্য দিয়ে জানিয়েছেন যে, সামান্য কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং একটি সাধারণ ওষুধ ব্যবহার করলেই এই মহান তারকাকে বাঁচানো সম্ভব ছিল।
বিশ্বখ্যাত ফুটবলার ডিয়েগো ম্যারাডোনার মৃত্যু নিয়ে অবহেলার মামলার বিচারকাজ বর্তমানে আর্জেন্টিনার সান ইসিদ্রোর আদালতে চলছে। গত বৃহস্পতিবার (১৪ মে) আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় প্রখ্যাত চিকিৎসক ডা. মারিও শিটার দাবি করেন, ম্যারাডোনার শরীরে জমে থাকা তরল পদার্থ অপসারণের জন্য যদি সাধারণ ‘ডাইউরেটিক’ (মূত্রবর্ধক) জাতীয় ওষুধ ব্যবহার করা হতো, তবে মাত্র ৪৮ ঘণ্টার মধ্যেই তিনি সুস্থ হয়ে উঠতে পারতেন। ২০০০ সালের শুরুতে ম্যারাডোনার চিকিৎসার সঙ্গে যুক্ত থাকা এবং ২০২০ সালে তার ময়নাতদন্তে উপস্থিত থাকা এই চিকিৎসক আরও জানান যে, হৃদরোগে আক্রান্ত অনেক রোগী নিয়মিত আইসিইউতে এই পদ্ধতির মাধ্যমে মাত্র ১২ ঘণ্টার মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরেন। ম্যারাডোনার ক্ষেত্রেও এমন সুযোগ ছিল, কিন্তু চিকিৎসকদের অবহেলার কারণে তা প্রয়োগ করা হয়নি।
ময়নাতদন্তে অংশ নেওয়া অন্য একজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক কার্লোস ক্যাসিনেলিও আদালতে একই ধরণের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান, মৃত্যুর সময় ম্যারাডোনার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে এবং কোষের অভ্যন্তরে প্রচুর পরিমাণে পানি বা তরল পদার্থ জমে গিয়েছিল। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় শরীরে এতটা পানি জমতে অন্তত এক সপ্তাহ থেকে ১০ দিন সময় লাগে। অর্থাৎ, ম্যারাডোনার ব্যক্তিগত চিকিৎসকেরা যদি দায়িত্বশীল হতেন, তবে মৃত্যুর অনেক আগেই তারা এই বিপজ্জনক লক্ষণগুলো শনাক্ত করতে পারতেন। যথাযথ পর্যবেক্ষণ থাকলে তার জীবন রক্ষা করা কঠিন ছিল না বলে চিকিৎসকেরা আদালতের কাছে মতামত দিয়েছেন।
বর্তমানে ম্যারাডোনার চিকিৎসায় নিয়োজিত থাকা মোট সাতজন স্বাস্থ্যকর্মী এই মৃত্যুতে গাফিলতি ও অবহেলার দায়ে বিচারের মুখোমুখি হয়েছেন। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, যদি এই সাতজনের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়, তবে আইন অনুযায়ী তাদের প্রত্যেকের সর্বোচ্চ ২৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে। ২০২০ সালের ২৫ অক্টোবর ফুটবল বিশ্বকে কাঁদিয়ে চলে যাওয়া এই মহানায়কের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং দায়ীদের চিহ্নিত করতে এই বিচারপ্রক্রিয়া আগামী জুলাই মাস পর্যন্ত চলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।



