পরীক্ষামূলক সংস্করণ

হামের চেয়ে নিউমোনিয়ায় মৃত্যু বেশি: প্রতিদিন প্রাণ হারাচ্ছে ৭০ শিশু

অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক

দেশে হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও শিশু বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, আক্রান্ত শিশুদের প্রায় ৯৫ শতাংশই সঠিক চিকিৎসায় সুস্থ হয়ে উঠছে। বর্তমানে হামের তুলনায় নিউমোনিয়ায় শিশু মৃত্যুর হার অনেক বেশি এবং এটিই শিশুদের জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা দিচ্ছে।

শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা দেশের শিশু স্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন। বিশেষজ্ঞরা জানান, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে হামে আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর হার মাত্র শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ। এর বিপরীতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে দেশে প্রতি বছর প্রায় ২৪ হাজার শিশু মারা যায়, যার অর্থ প্রতিদিন গড়ে ৬০ থেকে ৭০ জন শিশু এই রোগে প্রাণ হারাচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বিষয়টিকে ‘নীরব মৃত্যু’ হিসেবে অভিহিত করে নিউমোনিয়া প্রতিরোধে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান।

সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. জিয়াউল হক জানান, হাম একটি ভাইরাসজনিত রোগ যা সফল টিকাদানের মাধ্যমে এক সময় নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু গত দুই বছরে টিকাদান কর্মসূচিতে কিছুটা ছেদ পড়ায় চলতি বছরের মার্চ থেকে এর প্রকোপ বেড়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে ১৪ মে পর্যন্ত দুই মাসে মোট ৫৪ হাজার ৪১৯ জনের মধ্যে হাম ও এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া হামে ৭০ জন এবং হামের উপসর্গ নিয়ে ৩৬৯ জন মারা গেছে। তবে সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিলে এই মৃত্যু হার আরও কমানো সম্ভব বলে তারা অভিমত ব্যক্ত করেন।

শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. আবিদ হোসেন মোল্লা বলেন, হাম শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয়, যার ফলে পরবর্তীতে তারা নিউমোনিয়া ও ডায়রিয়ার মতো জটিলতায় ভোগে। এমনকি ১ শতাংশ শিশুর মস্তিষ্ক আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। তাই দ্রুত চিকিৎসার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। অধ্যাপক ডা. রুহুল আমিন জানান, দেশে বর্তমানে মাতৃদুগ্ধ পানের হার ৫৬ শতাংশ। বাকি শিশুরা মাতৃদুগ্ধ থেকে বঞ্চিত হওয়ায় এবং প্যাকেটজাত খাবারের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় তাদের রোগপ্রবণতা বাড়ছে। সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক ডা. গোলাম সারওয়ার ও অধ্যাপক ডা. আসিফ মোস্তফাসহ আরও অনেক প্রথিতযশা বিশেষজ্ঞ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান খবর

আসছে...