পরীক্ষামূলক সংস্করণ

মেহেরপুরে অনলাইন জুয়া চক্রের চার সদস্য গ্রেফতার

অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক

মেহেরপুরে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের রাতভর চালানো পৃথক অভিযানে একাধিক স্মার্টফোন ও অবৈধ ডলার লেনদেনের তথ্যসহ অনলাইন জুয়া চক্রের চার সক্রিয় এজেন্ট সদস্যকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

মেহেরপুর জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের একটি চৌকস দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জেলাজুড়ে এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। শুক্রবার (১৫ মে) রাতভর মেহেরপুর সদর, মুজিবনগর ও গাংনী থানা এলাকার বিভিন্ন স্থানে পৃথক এই অভিযানগুলো চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন মেহেরপুর ডিবির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী। এই সফল অভিযানের পর শনিবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মেহেরপুরের পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক আনুষ্ঠানিক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে চার জুয়াড়িকে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিরা হলো—মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল এলাকার বাসিন্দা মো. বায়েজিদ ডালিম (৩০), মুজিবনগরের পুরন্দরপুর গ্রামের মো. রকিবুল ইসলাম (৩৫), গাড়াডোব এলাকার রাফসান জনি রিপন (৩২) এবং আমঝুপি এলাকার মো. ফাহাদ হাসান জুনায়েদ (১৯)। অভিযান চলাকালীন ধৃত আসামিদের হেফাজত থেকে বেশ কয়েকটি আধুনিক স্মার্টফোন, বিপুল সংখ্যক অনলাইন জুয়ার অ্যাকাউন্ট, ব্যক্তিগত ই-মেইল আইডি এবং অবৈধ আন্তর্জাতিক ডলার লেনদেনের নানা গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল তথ্য-প্রমাণ উদ্ধার করা হয়েছে।

পুলিশের তদন্ত ও অভিযানিক কার্যক্রমে জানা যায়, ডিবির দলটি প্রথমে মেহেরপুর সদর উপজেলার চাঁদবিল এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে বায়েজিদ ডালিমকে আটক করে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি দামী গ্যালাক্সি জেড ফোল্ডার ৫ মডেলের মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে আটককৃত ডালিমের দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক তথ্যের ভিত্তিতে মুজিবনগরের পুরন্দরপুর গ্রামে দ্বিতীয় অভিযান চালিয়ে রকিবুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয় এবং তার কাছ থেকে একটি অপপো স্মার্টফোন উদ্ধার করা হয়। ডিবি পুলিশের প্রযুক্তি দল এই ফোন দুটি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যাচাই ও পরীক্ষা করে অনলাইন জুয়া পরিচালনা, অবৈধ ই-ট্রানজেকশন, আন্তর্জাতিক বাজারে অবৈধভাবে ডলার কেনাবেচা এবং বিভিন্ন অনলাইন জুয়ার সাইটের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার অকাট্য তথ্য ও প্রমাণ খুঁজে পায়।

একই রাতে ডিবির অপর একটি দল মেহেরপুরের গাড়াডোব এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে রাফসান জনি রিপনকে আটক করতে সক্ষম হয়। রিপনের ব্যবহৃত রিদমি নোট ১৪ মডেলের মোবাইল ফোনটি তল্লাশি করে সেখানে ৩৭টি সচল ই-মেইল আইডি এবং ২৯টি সক্রিয় অনলাইন জুয়ার অ্যাকাউন্টের সন্ধান পান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা। পরে রিপনের দেওয়া তথ্যের সূত্র ধরে মেহেরপুরের আমঝুপি এলাকায় অভিযান চালিয়ে ফাহাদ হাসান জুনায়েদকে গ্রেফতার করা হয়। জুনায়েদের কাছ থেকে উদ্ধার করা অপপো এ৩৮ মডেলের মোবাইল ফোনে সাতটি ই-মেইল আইডিসহ অনলাইন জুয়ার একটি মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট পাওয়া যায়, যা দিয়ে সে অবৈধ আর্থিক লেনদেন করতো।

মেহেরপুর ডিবির ওসি মুহাদ্দিদ মোর্শেদ চৌধুরী এই বিষয়ে জানান, গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামিরা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের এবং বিভিন্ন কৌশলে অন্যের নামে নিবন্ধিত করা সিম কার্ড ব্যবহার করে ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক অনলাইন জুয়া চক্র পরিচালনা করে আসছিল। তারা নিজেরাও জুয়ায় অংশ নিত এবং বাইনান্স ও বিভিন্ন মোবাইল ব্যাংকিং মাধ্যমের সাহায্যে অবৈধভাবে কোটি কোটি টাকা ও ডলার লেনদেন করে আসছিল। এই চক্রের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি ও ডিজিটাল জালিয়াতিসহ অনলাইন জুয়ার অপরাধে মেহেরপুর সদর এবং গাংনী থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন-২০২৬ এর আওতায় পৃথক দুটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে।

প্রধান খবর

বাংলাদেশ গড়ার কাজ নতুন প্রজন্মকে এগিয়ে নিতে হবে : প্রধানমন্ত্রী

নতুন প্রজন্মের হাত ধরেই আগামীর বাংলাদেশ গড়ে উঠবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। খেলাধুলা ও শিক্ষায় গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আসছে...