তৌফিকুর রহমান
ঢাকার গেন্ডারিয়া থানা-সংলগ্ন এলাকায় একটি ভবনের সিঁড়ির রেলিংয়ে রশিতে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় ৯ বছরের এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত শিশুর নাম তানভীর হোসেন। ঘটনাটি হত্যা, আত্মহত্যা নাকি অন্য কোনো কারণে ঘটেছে-তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
তানভীর হোসেন ফরিদাবাদ স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তার এমন মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
তানভীরের মা রানি বেগম অভাবের সংসারে অসুস্থ স্বামী আলী আকবর, তিন ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন। স্বামী অসুস্থ থাকায় সংসারের খরচ চালাতে তিনি আল আমিন ও লাবনি দম্পতির বাসায় কাজ করতেন।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার তিন দিন আগে রানি বেগমের ওই বাসার কাজটি চলে যায়। এরপর তানভীর বাড়িতে মাকে না পেয়ে ছোট বোন জান্নাতকে সঙ্গে নিয়ে মাকে খুঁজতে তার আগের কর্মস্থলে যায়।
পরিবারের দাবি, এরপর ওই বাসার সিঁড়ির রেলিংয়ে তানভীরকে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হলো, সে বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে নানা প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ঘটনার সময় তানভীরের ছোট বোন জান্নাত ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। সে ঘটনাটি সম্পর্কে তাদের কাছে থাকা তথ্য বর্ণনা করেছে।
পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, আল আমিন ও লাবনি দম্পতি ‘অলি বাবর্চি বিরিয়ানি হাউজ’ নামের একাধিক প্রতিষ্ঠানের মালিক। তবে শিশুটির মৃত্যুর সঙ্গে কারও সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
তানভীরের মা রানি বেগম সন্তানের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন। তিনি কীভাবে তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে, তার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনায় প্রকৃত ঘটনা কী, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে। এ ঘটনায় কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়ে থাকলে দায়ীদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে পরিবার।



