অল ক্রাইমস.টিভি ডেস্ক
বাংলাদেশে ভারতের ‘দালালদের’ চিহ্নিত করে তাদের হাত-পা ভেঙে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করার জন্য দেশপ্রেমিক জনতার প্রতি তীব্র আহ্বান জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ (বীর বিক্রম)।
শনিবার (১৬ মে) বিকেলে দেশের সার্বিক জনদুর্ভোগ লাঘব, গণভোটের ঐতিহাসিক রায় বাস্তবায়ন এবং আন্তর্জাতিক নদী পদ্মার পানির ন্যায্য হিস্যা আদায়ের দাবিতে রাজশাহীর ঐতিহ্যবাহী মাদরাসা ময়দানে এক বিশাল জনসভার আয়োজন করা হয়। উক্ত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বীর মুক্তিযোদ্ধা কর্নেল (অব.) অলি আহমদ ভারতের অভ্যন্তরীণ নীতি ও বিদেশি হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন অবস্থান ঘোষণা করেন। তিনি সমবেত জনতার উদ্দেশ্যে বলেন, বিগত ১৯ বছর ধরে বিদেশি কিছু বিশেষ দালালের রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডের কারণে এ দেশের সাধারণ মানুষকে সীমাহীন কষ্ট ও নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। তাই দেশের সার্বিক স্বৈরাচারী ও দাসত্বমূলক ব্যবস্থার অবসান ঘটাতে এখন সময় এসেছে এই সমস্ত বিদেশি দালালদের প্রকাশ্যে সমাজ থেকে চিহ্নিত করার। দেশপ্রেমিক জনতা যেখানেই এই দালালদের পাবে, সেখানেই তাদের হাত-পা ভেঙে দিয়ে সরাসরি পুলিশের কাছে সোপর্দ করবে, যেন তারা আর কখনো দেশের সার্বভৌমত্ব নিয়ে ছিনিমিনি খেলতে না পারে।
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক এবং ভূ-রাজনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে এলডিপি চেয়ারম্যান দাবি করেন, ভারত অনবরত বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও রাজনৈতিক বিষয়ে সম্পূর্ণ অনৈতিকভাবে হস্তক্ষেপ করে আসছে। একই সাথে বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তজুড়ে প্রতিনিয়ত নিরপরাধ বাংলাদেশি নাগরিকদের ওপর গুলিবর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের মাধ্যমে এক ধরনের তীব্র উত্তেজনা ও সংকট তৈরি করে রাখা হয়েছে, যা কোনো স্বাধীন রাষ্ট্র মেনে নিতে পারে না। দেশের গৌরবোজ্জ্বল রাজনৈতিক ইতিহাস ও অতীতের বিভিন্ন যুগান্তকারী ঘটনার কথা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি স্পষ্ট করেন যে, বাংলাদেশের মানুষ কখনো কোনো বিদেশি শক্তির দাসত্ব বা আধিপত্য মেনে নেয়নি এবং ভবিষ্যতেও নেবে না।
দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক স্থবিরতা ও সামাজিক সংকট নিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের তীব্র সমালোচনা করে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে সব ক্ষেত্রে এক ভয়াবহ এবং নজিরবিহীন সংকট চলছে। দেশে ক্রমান্বয়ে বিদেশি বিনিয়োগের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাচ্ছে এবং বড় বড় আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলো লোকসানের মুখে এ দেশ থেকে তাদের ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুরোপুরি গুটিয়ে নিচ্ছে। এর ফলে দেশজুড়ে শিক্ষিত ও কর্মক্ষম যুবসমাজের বেকারত্ব জ্যামিতিক হারে বাড়ছে এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মেহনতি মানুষ চরম দুর্ভোগের মধ্যে দিনাতিপাত করছে। তিনি দেশজুড়ে চলমান নতুন মাত্রার চাঁদাবাজি ও দ্রব্যমূল্য সিন্ডিকেটের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, দেশের এই বিশাল বেকার সমস্যা সমাধান করা, প্রতিবেশী দেশের সাথে সমমর্যাদার ভিত্তিতে সম্পর্ক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা এবং দেশের অভ্যন্তরীণ আইন-শৃঙ্খলা ও সামগ্রিক শৃঙ্খলা রক্ষায় সরকারকে অবিলম্বে কার্যকর ও দৃশ্যমান পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।



