পরীক্ষামূলক সংস্করণ

৩ বছর ধরে ঘরে অবরুদ্ধ বৃদ্ধ বাবা, স্ত্রীর জানাজায়ও যেতে দিল না ছেলে

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে জমি লিখে নিয়ে বৃদ্ধ বাবাকে ৩ বছর ধরে ঘরে অবরুদ্ধ করে রাখার এবং তাঁর স্ত্রীর জানাজা ও দাফনে অংশ নিতে না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বড় ছেলের বিরুদ্ধে; পরে পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।

কুড়িগ্রামের রাজারহাটে পারিবারিক নৃশংসতা ও নৈতিক অবক্ষয়ের এক চরম দৃষ্টান্ত সামনে এসেছে। ১৪ একর জমি নিজের নামে লিখে নিয়ে বৃদ্ধ বাবাকে দীর্ঘ তিন বছর ধরে ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ বা বন্দি করে রাখার অভিযোগ উঠেছে তাঁরই বড় ছেলের বিরুদ্ধে। এমনকি নিজের জন্মদাত্রী মায়ের মৃত্যুর পর বৃদ্ধ বাবাকে তাঁর স্ত্রীর জানাজা ও শেষ বিদায়ের দাফনকার্যেও অংশ নিতে দেওয়া হয়নি বলে গুরুতর অভিযোগ করেছেন স্বজনরা। পরবর্তীতে থানা পুলিশ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দীর্ঘস্থায়ী মধ্যস্থতায় দাফন সম্পন্ন হওয়ার প্রায় চার ঘণ্টা পর অবরুদ্ধ দশা থেকে মুক্ত হয়ে ছেলেসহ স্ত্রীর কবর জিয়ারত করেছেন ওই বৃদ্ধ।

হৃদয়বিদারক এই ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (৪ জুন) দুপুরে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার চাকিরপশার ইউনিয়নের নাককাটি গ্রামে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, নাককাটি গ্রামের বৃদ্ধ আব্দুল জলিল (৭৫) ও মাহমুদা বেগম (৬৫) দম্পতির সংসারে তিন মেয়ে ও দুই ছেলে রয়েছে। মেয়েদের সবার বিয়ে হয়ে গেছে। ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ (৪৬) গ্রামে থেকে কৃষিকাজ করেন এবং ছোট ছেলে মোস্তফা (৩৫) বরগুনা জেলায় শিক্ষকতা করেন।

পরিবারের অন্য সদস্য ও স্বজনদের অভিযোগ, ছোট ছেলে মোস্তফা কর্মস্থলে থাকার সুবাদে এবং বোনেরা শ্বশুরবাড়িতে থাকার সুযোগে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ বিভিন্ন কৌশলে বৃদ্ধ বাবার প্রায় ১৪ একর জমি নিজের নামে কবলা (রেজিস্ট্রি) করে নেন। জমি হাতিয়ে নেওয়ার পর থেকেই তিনি বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিলকে বাইরের জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন করে নিজ ঘরের ভেতর অবরুদ্ধ করে রাখেন।

এদিকে, জমিজমা নিয়ে এমন পারিবারিক অশান্তির মধ্যে বৃদ্ধা মাহমুদা বেগম মারাত্মক অসুস্থ হয়ে পড়লে বড় ছেলে তাঁর কোনো দায়িত্ব নেননি। পরবর্তীতে মেয়েরা মায়ের চিকিৎসার ভার নেন। বড় মেয়ে পারভিনা বেগম গত রমজানের পর মাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করান। কিছুটা সুস্থ হলে দ্বিতীয় মেয়ে রনজিনা বেগম মাকে নিজের বাড়ি একই ইউনিয়নের জয়দেব হায়াত গ্রামে নিয়ে যান। সেখানে অবস্থার আরও অবনতি হলে গত ৩১ মে মাহমুদা বেগমকে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। পরবর্তীতে চিকিৎসকরা আশা ছেড়ে দিয়ে বাড়িতে নেওয়ার পরামর্শ দিলে তাঁকে আবারও মেয়ের বাড়িতে আনা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ৩ জুন (বুধবার) রাতে ওই বৃদ্ধা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে বাবার বাড়ি নাককাটি গ্রামের পারিবারিক কবরস্থানে বৃদ্ধার মরদেহ দাফনের উদ্যোগ নেওয়া হলে বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফ তাতে চরম বাধা দেন বলে অভিযোগ ওঠে। একই সাথে তিনি নিজ ঘরের ভেতর বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিলকে তালাবদ্ধ করে আটকে রাখেন, যেন তিনি কোনোভাবেই স্ত্রীর জানাজা ও দাফনে শরিক হতে না পারেন। এই অমানবিক পরিস্থিতিতে স্থানীয় প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় মেয়েরা মায়ের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন করেন।

ঘটনার খবর পেয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মামুনুর রশীদ অতিরিক্ত পুলিশ ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এ সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সেখানে উপস্থিত হন উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মো. কফিল উদ্দিন, স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম, স্থানীয় কলেজের অধ্যক্ষ, ইউপি সদস্য মোস্তফা মিয়া এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি রাজু মিয়াসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

পরবর্তীতে ওসি মামুনুর রশীদের বিশেষ উদ্যোগে এবং উপস্থিত স্থানীয় নেতাদের উপস্থিতিতে এক সালিশি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ আলোচনার পর ঘরের তালা ভেঙে অবরুদ্ধ থাকা বৃদ্ধ আব্দুল জলিলকে উদ্ধার করা হয়। মুক্ত হওয়ার পর, দাফনের প্রায় চার ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও, বৃদ্ধ বাবা আব্দুল জলিল তাঁর অভিযুক্ত বড় ছেলে আব্দুল মোন্নাফকে সাথে নিয়ে অশ্রুসিক্ত নয়নে স্ত্রী মাহমুদা বেগমের কবর জিয়ারত করেন।

রাজারহাট থানার ওসি মামুনুর রশীদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূল বিরোধটি ছিল জমি-সংক্রান্ত। বড় ছেলে বাবাকে অবরুদ্ধ করে রেখেছিল এবং মায়ের মৃত্যুর পর বাবাকে দাফনে অংশ নিতে দেয়নি। বিষয়টি জানার পর পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থলে গিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সহায়তায় দীর্ঘস্থায়ী অবরুদ্ধ অবস্থার অবসান ঘটায় এবং সংকটের প্রাথমিক সমাধান করে।

প্রধান খবর

এলপিজি ব্যবসায়ীদের ধর্মঘটের ঘোষণা, বৃহস্পতি-শুক্রবার বন্ধ থাকবে সিলিন্ডারের দোকান

এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবসায়ীদের হয়রানির প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার সারা দেশে দোকান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে এলপি গ্যাস ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড।

কন্যাশিশুর শিক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের কর্মপরিকল্পনা রয়েছে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, কন্যাশিশুর শিক্ষা, নিরাপত্তা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার সুস্পষ্ট নীতি ও কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা ও ন্যায্য বেতন নিশ্চিত করতে হবে: রাষ্ট্রপতি

সাংবাদিকদের চাকরির নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন ও সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি। স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার পরিবেশ গড়তে এসব অধিকারকে গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আসছে...