চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে সুপারি গাছের ডাটার ভেতরে এবং লাগেজের গোপন কুঠুরিতে লুকিয়ে ইয়াবা পাচারের সময় ২ হাজার ৩১২ পিস ইয়াবাসহ নারীসহ ৩ মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ।
চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে অভিনব ও চোখ ধাঁধানো কৌশলে ইয়াবা পাচারের সময় পৃথক দুটি সফল অভিযান পরিচালনা করে ২ হাজার ৩১২ পিস ইয়াবাসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ। শুক্রবার (৫ জুন) গ্রেপ্তারকৃত এই তিন আসামিকে যথাযথ পুলিশি পাহারায় চট্টগ্রাম আদালতে পাঠানো হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে একজন কক্সবাজারের টেকনাফের পেশাদার মাদক কারবারি এবং অন্য দুজন পাবনা জেলার বাসিন্দা সম্পর্কে স্বামী-স্ত্রী। প্রযুক্তির চোখ ও পুলিশের কড়া নজরদারি এড়িয়ে ভিন্নধর্মী উপায়ে মাদক পরিবহনের এই ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারকৃত মাদক কারবারিরা হলেন—কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার মোহাম্মদ আইয়ুবের ছেলে মোহাম্মদ আয়াস (২৮), পাবনা জেলার আমিনপুর থানার জাহিদুল শেখের ছেলের জাফর ইকবাল (৩৪) এবং তাঁর স্ত্রী মোছাম্মত জুথী (২৬)। পুলিশ জানায়, শুক্রবার ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জোরারগঞ্জ থানার একটি বিশেষ দল মিরসরাই উপজেলার বারইয়ারহাট পৌরসভার উত্তর সোনাপাহাড় এলাকায় অবস্থিত ট্রাফিক পুলিশ বক্সের সামনে ওত পেতে থাকে। এ সময় সন্দেহভাজন হিসেবে মোহাম্মদ আয়াসকে আটক করা হয়। পরে তাঁর সাথে থাকা সুপারি গাছের ছড়ার সাতটি কাঁচা ডাটার ভেতরে তল্লাশি চালালে পুলিশ বিস্ময়কর এক কৌশলের সন্ধান পায়। আয়াস সুপারি ডাটালোগুলো কেটে ভেতরে ফাঁপা করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে পলিথিনে মোড়ানো ১ হাজার ৩১২ পিস ইয়াবা ঢুকিয়েছিল এবং পরে কাঁচা আঠা দিয়ে তা এমনভাবে আটকে দিয়েছিল যা খালি চোখে চেনার উপায় ছিল না।
অন্যদিকে, প্রায় একই সময়ে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের আরেকটি দল গোপন খবরের ভিত্তিতে মহাসড়কের নির্ধারিত চেকপোস্টে ঢাকাগামী ‘রয়েল কোচ সার্ভিস’ নামের একটি দূরপাল্লার যাত্রীবাহী বাসে তল্লাশি অভিযান চালায়। বাসের ভেতরের যাত্রীদের মালামাল পরীক্ষার একপর্যায়ে জাফর ইকবাল ও তাঁর স্ত্রী জুথীর সাথে থাকা একটি সাধারণ ট্রাভেল লাগেজের ওপর পুলিশের সন্দেহ হয়। পারিবারিক কাপড়-চোপড় বহনের ওই লাগেজের ভেতরের অংশ গভীরভাবে পরীক্ষা করে দেখা যায়, লাগেজের নিচে স্ক্রু দিয়ে আটকানো একটি গোপন কুঠুরি বা ফলস কম্পার্টমেন্ট তৈরি করা রয়েছে। পরবর্তীতে সেই গোপন স্থান ভেঙে পুলিশ আরও ১ হাজার পিস লালচে ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করে। হাতেনাতে মাদক উদ্ধারের পর বাস থেকেই এই দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
জোরারগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল হালিম এই জোড়া অভিযানের ও মাদক উদ্ধারের সার্বিক সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানান, মাদকের ভয়াবহ ছোবল থেকে সমাজকে রক্ষা করতে জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের বিশেষ চিরুনি অভিযান ও কড়া নজরদারি অব্যাহত রয়েছে। শুক্রবারের এই পৃথক দুই অভিযানে মোট ২ হাজার ৩১২ পিস ইয়াবাসহ তিনজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং দুপুরের দিকেই তাঁদেরকে প্রিজন ভ্যানে করে চট্টগ্রাম বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। মাদকের এই আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ রুটগুলো সম্পূর্ণ বন্ধ করতে পুলিশি তৎপরতা আরও জোরদার করা হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।



