ঠাকুরগাঁওয়ে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীকে গুদাম ঘরে আটকে রেখে পালাক্রমে গণধর্ষণের সময় তিন লম্পট যুবককে হাতেনাতে আটক এবং ভুক্তভোগী কিশোরীকে উদ্ধার করেছে জেলা পুলিশের একটি টহল দল।গত শনিবার (১৩ জুন) দিবাগত রাত ৩টার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত কালিতলা বাজারের পাশে অবস্থিত একটি নির্জন গুদামে বা গোডাউন ঘরে এই বর্বরোচিত গণধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে। পুলিশ ও ভুক্তভোগী কিশোরীর পারিবারিক সূত্র থেকে জানা গেছে, মায়া (ছদ্মনাম) নামের ওই ১৫ বছর বয়সী কিশোরীর সঙ্গে মাত্র এক সপ্তাহ আগে অভিযুক্ত যুবক মো. তামিম ইসলামের পরিচয় হয়। এই পরিচয়ের সূত্র ধরে গত শনিবার বিকেলে ওই কিশোরীকে ঠাকুরগাঁওয়ের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থানে ঘুরতে বা বেড়ানোর কথা বলে প্রলোভন দেখিয়ে তার নিজ বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে আসেন ২২ বছর বয়সী যুবক তামিম ইসলাম। এরপর ঠাকুরগাঁও শহরের বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘক্ষণ ঘোরাঘুরি শেষে রাত ১১টার দিকে কালিতলা বাজারের পাশে অবস্থিত ‘ঘষমিন্টুর গোডাউন ঘরে’ ওই কিশোরীকে ফুসলিয়ে ও জোরপূর্বক নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে আগে থেকেই অবস্থান করছিলেন তামিমের আরও দুই বন্ধু মো. রনি এবং মজিদুরের ছেলে মো. মাসুদ। ওই নির্জন গুদাম ঘরে কিশোরীটিকে আটকে রেখে তামিম ইসলাম, মো. রনি এবং মো. মাসুদ তিনজনে মিলে পালাক্রমে পাশবিক নির্যাতন ও ধর্ষণ করেন।
ঘটনার দিন রাত তিনটার দিকে ঠাকুরগাঁও সদর থানা পুলিশের একটি নিয়মিত নৈশ টহল দল ওই কালিতলা বাজার এলাকা দিয়ে যাওয়ার সময় গুদাম ঘরের ভেতর থেকে ধস্তাধস্তি ও সন্দেহজনক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি বুঝতে পারে। তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ সদস্যরা ওই গুদাম ঘরে আকস্মিক অভিযান পরিচালনা করে গণধর্ষণে লিপ্ত থাকা তিন যুবককে হাতেনাতে আটক করতে সক্ষম হন এবং একই সাথে গুরুতর ও রক্তাক্ত অবস্থায় ভুক্তভোগী কিশোরীটিকে উদ্ধার করেন। পুলিশ হেফাজতে নেওয়ার পর মেয়েটিকে চিকিৎসার জন্য এবং ডাক্তারি পরীক্ষার উদ্দেশ্যে দ্রুত ঠাকুরগাঁওয়ের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে বর্তমানে তার চিকিৎসা চলছে।
পুলিশের অভিযানে আটক হওয়া তিন অভিযুক্ত যুবকের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলেন—ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার কালিতলা এলাকার মো. আনারুলের ছেলে ২২ বছর বয়সী মো. তামিম ইসলাম, একই এলাকার মো. মিন্টুর ছেলে ২১ বছর বয়সী মো. রনি এবং একই এলাকার মজিদুরের ছেলে ২২ বছর বয়সী মো. মাসুদ। ঠাকুরগাঁও সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বা ওসি মো. শাহজাহান আলী গণমাধ্যমকে ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, আটককৃত তিন লম্পট যুবককে রাতেই থানায় এনে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং তারা অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। এই বর্বরোচিত ও অমানবিক ঘটনায় ভুক্তভোগী নাবালিকা কিশোরীর পরিবারের পক্ষ থেকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে একটি নিয়মিত মামলা দায়েরের আইনি প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে এবং আসামিদের আদালতে সোপর্দ করা হবে।



