ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদ্য বহিষ্কৃত কেন্দ্রীয় সহকারী আন্তর্জাতিক সম্পাদক জিসান মিয়া প্রধানকে আদালতের নির্দেশনায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৬ জুন) বিকেলে কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ৩-এর বিচারক তৈয়ব উদ্দিন আহমেদ তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। কুমিল্লা কোর্ট পুলিশের পরিদর্শক মোহাম্মদ মামুনুর রশিদ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসামির রিমান্ডের জন্য কোনো আবেদন করা হয়নি। এর আগে দুপুরে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয় এবং বিকেল সাড়ে ৫টায় জেলা পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কড়া পাহারায় মাথায় হেলমেট ও পরনে পুলিশ ভেস্ট পরা অবস্থায় জিসানকে তড়িঘড়ি করে আদালতে তোলা হয়। আদালত থেকে নামানোর সময়ও তাকে একইভাবে প্রিজন ভ্যানে উঠিয়ে কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়। জিসানকে কারাগারে নেওয়ার সময় তার আইনজীবী মনির হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা তার (জিসানের) শারীরিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে তাকে কারা হাসপাতালে রাখার আবেদন করেছিলাম। আদালত আমাদের কাছে ওকালতনামা চান। আমরা পুলিশ কাস্টডিতে তার কাছ থেকে ওকালতনামা নিতে চাইলে ডিবি ও জেলা পুলিশ তা নিতে দেয়নি। তারা (পুলিশ) জিসানকে তড়িঘড়ি করে ধাক্কা দিয়ে প্রিজনভ্যানে উঠিয়ে ফেলে। এতেই বোঝা যায়, তারা কোনো কিছু লুকাতে চায়।”
এর আগে গত বৃহস্পতিবার (১১ জুন) রাতে জিসান মিয়া প্রধান নিখোঁজ হন এবং তার পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ ডায়েরি করা হয়। এরপর শুক্রবার (১২ জুন) রাত ৮ থেকে ৯টার দিকে জেলার লাকসাম জংশন এলাকা থেকে তাকে উদ্ধার করে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত শনিবার (১৩ জুন) বিকেলে এক সংবাদ সম্মেলনে জেলা পুলিশ সুপার মো. আনিসুজ্জামান জানান, ২৫ বছর বয়সী এক বিধবা নারী বাদী হয়ে ধর্ষণ ও ভ্রূণ নষ্টের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ৫-৬ মাস আগে ফেসবুকের মাধ্যমে জিসানের সাথে ওই নারীর পরিচয় হয় এবং পরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। গত ২০ মে জিসান তার দাউদকান্দির ভাড়া বাসায় নিয়ে ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। পরবর্তীতে ওই নারী গর্ভবতী হলে জিসান তার চাচাতো ভাই সজীবকে দিয়ে ওষুধ পাঠিয়ে ভ্রূণ নষ্ট করান। এরপর ওই নারী সুস্থ হয়ে জিসানকে বিয়ের জন্য চাপ দিলে গত শুক্রবার (১২ জুন) উভয়ের বিয়ের দিন ধার্য ছিল। কিন্তু সেই বিয়ে থেকে বিরত থাকতেই বৃহস্পতিবার রাতে জিসান নিখোঁজের নাটক সাজান বলে পুলিশ সুপার সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনায় গত রোববার (১৪ জুন) জিসানের শারীরিক অবস্থা পর্যালোচনার জন্য ৪ সদস্য বিশিষ্ট মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয় এবং বোর্ড তাকে সুস্থ বলে প্রতিবেদন দিলে মঙ্গলবার হাসপাতাল থেকে তাকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়।



