যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার বিরুদ্ধে ইরান পারমাণবিক চুক্তি সম্পাদনের সময় তেহরানকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ তথা ‘ঘুষ’ দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন দেশটির বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত জি৭ বা গ্রুপ অব সেভেন শীর্ষ সম্মেলনে উপস্থিত সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আলোড়ন সৃষ্টিকারী এই নতুন দাবিটি করেন। ট্রাম্পের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৫ সালের বারাক ওবামার নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ওই ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তির অংশ হিসেবে ইরানকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করেছিল। ওবামার বৈদেশিক নীতির তীব্র সমালোচনা করে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুবহু বলেন, ‘ওবামার করা জেসিপিওএ চুক্তির সময় তারা ইরানকে ১ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার নগদ অর্থ দিয়েছিল। ব্যাংক থেকে আনা সবুজ ডলার একটি বোয়িং ৭৫৭ বিমানে করে ইরানে পাঠানো হয়েছিল।’ তিনি তৎকালীন পরিস্থিতির বিবরণ দিতে গিয়ে আরও দাবি করেন এবং হুবহু বলেন, “তারা বিমানের পাশে দাঁড়িয়ে বলছিল- ‘ওহ মাই গড, দেখো আমাদের কত টাকা দেওয়া হচ্ছে।’ আমার কাছে এর ছবিও আছে।” ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত ওবামা প্রশাসনের ইরান নীতির তীব্র নিন্দা জানিয়ে হুবহু বলেন, ‘তিনি অর্থ দিয়ে সমাধান কেনার চেষ্টা করেছিলেন। আমি তা করিনি।’ এ ছাড়া ট্রাম্প সাংবাদিকদের কাছে আরও দাবি করেন যে, ইরানের শীর্ষ নেতারা ওবামা প্রশাসনের কাছ থেকে ওই বিপুল পরিমাণ অর্থ পাওয়ার পর ওবামাকে আর বিন্দুমাত্র গুরুত্বের সঙ্গে নেননি এবং উল্টো তাকে নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে উপহাস ও ঠাট্টা করেছিলেন।
উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে বিশ্বের পরাশক্তি রাষ্ট্র যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি, রাশিয়া, চীন এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ইরানের যৌথ সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বা জেসিপিওএ চুক্তিটি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচির ওপর সুনির্দিষ্ট কিছু কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় এবং এর বিনিময়ে ইরানের ওপর দীর্ঘদিন ধরে আরোপিত থাকা বেশ কিছু আন্তর্জাতিক ও অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা হয়েছিল। তবে ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে থাকাকালীন ২০১৮ সালে এই বহুজাতিক চুক্তিটিকে অত্যন্ত ‘খারাপ সমঝোতা’ হিসেবে আখ্যায়িত করে যুক্তরাষ্ট্রকে চুক্তি থেকে সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করে নেন এবং এরপর থেকে তিনি বারবার ওবামা ও ইরানের এই চুক্তিটির বিরুদ্ধে কড়া সমালোচনা করে আসছেন। ফ্রান্সে জি৭ সম্মেলনের সংবাদ সম্মেলনে দেওয়া ট্রাম্পের এই বক্তব্যটি বৈশ্বিক রাজনীতি ও কূটনীতিতে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।



