আফগানিস্তানের তালেবান সরকার পাকিস্তানের বেলুচিস্তান ও খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে সশস্ত্র গোষ্ঠীর আস্তানায় বিমান হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে, যার ফলে দুই প্রতিবেশীর মধ্যে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
আফগান তালেবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার রাতে পাকিস্তানের ভেতরে থাকা কয়েকটি গোপন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে এই সামরিক অভিযান চালানো হয়। কয়েক মাসের মধ্যে এটি কাবুলের পক্ষ থেকে নেওয়া প্রথম বড় ধরনের সামরিক পদক্ষেপ। তবে এই হামলাটি ঠিক কীভাবে পরিচালিত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে জানানো হয়নি। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, আফগানিস্তানের নিজস্ব কোনো প্রথাগত যুদ্ধবিমান না থাকলেও তাদের কাছে অন্তত ৬টি বিমান এবং ২৩টি হেলিকপ্টার রয়েছে। এর পাশাপাশি, অতীতে পাকিস্তানের সঙ্গে বিভিন্ন সীমান্ত সংঘর্ষে আফগান বাহিনীর ড্রোন ব্যবহারের খবরও পাওয়া গেছে।
তালেবান কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের মাটিতে অবস্থিত এসব ঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে বিভিন্ন হামলার পরিকল্পনা ও সমন্বয়ের জন্য ব্যবহার করা হতো এবং এগুলো অতীতের বেশ কয়েকটি প্রাণঘাতী হামলার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল। এই অভিযানে ঠিক কতজন হতাহত হয়েছে সে সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি, তবে তালেবান দাবি করেছে যে অভিযানে তাদের নির্ধারিত প্রধান লক্ষ্যবস্তুগুলোতে সফলভাবে আঘাত করা সম্ভব হয়েছে।
অন্যদিকে, এই হামলার দাবির প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী কিংবা তথ্য মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য বা প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ক্রমেই অবনতির দিকে গিয়েছে। ইসলামাবাদ দীর্ঘদিন ধরেই অভিযোগ করে আসছে যে, আফগানিস্তান তাদের ভূখণ্ডে পাকিস্তানবিরোধী সশস্ত্র যোদ্ধাদের নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে। তবে কাবুল এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে এবং তাদের মতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সমস্যা সম্পূর্ণভাবেই তাদের নিজস্ব অভ্যন্তরীণ বিষয়।
এর আগে গত সপ্তাহে পাকিস্তানও আফগানিস্তানের অভ্যন্তরে একই ধরনের বিমান হামলা চালিয়েছিল। সেই হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে দুই দেশের পক্ষ থেকে ভিন্ন তথ্য দেওয়া হয়েছে। তালেবানের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের ওই হামলায় ১১ জন শিশুসহ অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ১৪ জন আহত হয়েছে। অপরদিকে, পাকিস্তানের দাবি ছিল যে তাদের ওই বিশেষ অভিযানে ২৬ জন সশস্ত্র যোদ্ধা নিহত হয়েছে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে তালেবানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় কঠোর সতর্কবার্তা দিয়ে বলেছে যে, আফগানিস্তান তার নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার বিরুদ্ধে কোনো হুমকি আর সহ্য করবে না এবং প্রয়োজন হলে নিজেদের সব ধরনের সামরিক সক্ষমতা ব্যবহার করে যেকোনো হুমকির উৎসকে কঠোরভাবে মোকাবেলা করবে।



