সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভুলবশত ছড়ানো বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে দেশজুড়ে আলোচিত হওয়া টাঙ্গাইলের সেই প্রকৃত কৃষক কবির হোসেন হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেছেন।
দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচিত টাঙ্গাইলের সেই কৃষক কবির হোসেন আর বেঁচে নেই। আজ মঙ্গলবার (২৩ জুন) রাত সাড়ে ৮টার দিকে টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের তারটিয়া গ্রামে নিজ বাড়িতে হৃদরোগে (হার্ট অ্যাটাক) আক্রান্ত হয়ে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। হঠাৎ করে স্ট্রোক করার পর কোনো চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার আগেই তাঁর এই আকস্মিক মৃত্যু ঘটে। কবির হোসেনের এমন অকাল মৃত্যুতে তাঁর পরিবার-পরিজন, আত্মীয়স্বজন এবং পুরো এলাকাবাসীর মধ্যে গভীর শোক ও বেদনার ছায়া নেমে এসেছে।
এদিকে কৃষক কবির হোসেনের এই আকস্মিক ও অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী এবং টাঙ্গাইল-৫ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য সুলতান সালাউদ্দিন টুকু। এক বিশেষ শোকবার্তায় সরকারের এই প্রতিমন্ত্রী মরহুমের বিদেহী রুহের মাগফিরাত কামনা করেন। একই সাথে তিনি শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান এবং এই কঠিন সময়ে শোকাহত পরিবারকে ধৈর্যধারণের শক্তি দানের জন্য মহান আল্লাহর দরবারে বিশেষ প্রার্থনা করেন।
প্রাসঙ্গিকভাবে উল্লেখ্য যে, গত ১৪ এপ্রিল বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের হাত থেকে সরাসরি ‘কৃষক কার্ড’ গ্রহণ করেছিলেন কবির হোসেন। এই ঘটনার পর পরই কোনো একটি কুচক্রী মহল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা ‘এআই জেনারেটেড’ (AI-generated) কিছু ভুয়া ছবি তৈরি করে কবির হোসেনকে ভুয়া কৃষক সাজানোর চেষ্টা করে। এই ছবি ও গুজব ফেসবুকে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে চরম বিভ্রান্তি, বিতর্ক ও ব্যাপক সমালোচনা-আলোচনার সৃষ্টি হয়।
পরবর্তীতে বিষয়টি প্রশাসনের সর্বোচ্চ মহলের নজরে আসার পর সরকারের কৃষি অধিদপ্তরসহ টাঙ্গাইল জেলা প্রশাসনের একাধিক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও তদন্ত দল তারটিয়া গ্রামে কবির হোসেনের নিজ বাড়ি সরজমিন পরিদর্শন করেন। প্রশাসনের নিবিড় তদন্তে কবির হোসেন যে কোনো ছদ্মবেশী নন, বরং একজন সম্পূর্ণ প্রকৃত প্রান্তিক কৃষক, তা স্পষ্টভাবে শনাক্ত করা হয়। তদন্ত শেষে সংশ্লিষ্ট কৃষি কর্মকর্তারা সরকারি প্রতিবেদনে জানান, কবির হোসেন পৈতৃক সূত্রেই দীর্ঘদিন ধরে সরাসরি কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন এবং নিজের জমিসহ স্থানীয় বিভিন্ন কৃষি কার্যক্রমে অত্যন্ত সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন। তদন্ত প্রতিবেদনের মাধ্যমে তাঁর প্রকৃত কৃষক পরিচয়ের শতভাগ সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার পরই মূলত তাঁকে ঘিরে ওঠা সমস্ত সামাজিক ও রাজনৈতিক বিতর্কের চিরতরে অবসান ঘটেছিল।



