নরসিংদীর পলাশে স্ত্রী সুমি আক্তারকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় করা মামলায় স্বামী নূর আলম রূপাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আলী আহসান এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি নূর আলম রূপা আদালতে উপস্থিত ছিলেন।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে পলাশ উপজেলার উত্তর মিয়াপাড়া এলাকার নূর আলম রূপার সঙ্গে কিশোরগঞ্জের তাড়াইল উপজেলার সুমি আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে সুমির ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে।
নিহতের পরিবার জানায়, সুমির বাবা মেয়ের সুখের কথা চিন্তা করে কয়েক দফায় রূপাকে দুই লাখ টাকা দেন। পরে আরও ৫০ হাজার টাকার জন্য সুমির ওপর নির্যাতন চালানো হয় বলে অভিযোগ করা হয়।
পরবর্তী সময়ে সুমি আক্তার প্রবাসে গিয়ে স্বামী ও সন্তানের জন্য অর্থ পাঠান। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ফেরার পর স্বামী মোটরসাইকেল কিনে দেওয়ার দাবি করেন। এ নিয়ে বিরোধের জেরে সুমির ওপর নির্যাতন শুরু হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে পরিকল্পিতভাবে সুমিকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে স্বামী রূপা পালিয়ে যান। এ ঘটনায় নিহতের বাবা ফজলু মিয়া পলাশ থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা করেন।
আদালতে সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে বৃহস্পতিবার নূর আলম রূপাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।



