গাজার নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে পাল্টাপাল্টি অবস্থান দেখা দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়ার কথা বলা হলেও, কে আগে পদক্ষেপ নেবে তা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হয়েছে।
ইসরায়েল জানিয়েছে, হামাসের কার্যকর ও সম্পূর্ণ অস্ত্রসমর্পণ ছাড়া গাজা থেকে সেনা প্রত্যাহার করবে না। অন্যদিকে হামাসের দাবি, ইসরায়েলকে আগে সব ধরনের হামলা বন্ধ করে গাজা থেকে সেনা সরাতে হবে, এরপর তারা ভারী অস্ত্র হস্তান্তরের বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে এবং দেশটি এতে সন্তুষ্ট। তবে ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভির এই প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন।
ট্রাম্পের প্রস্তাব অনুযায়ী, হামাসের কাছ থেকে সংগৃহীত অস্ত্র ‘বোর্ড অব পিস’-এর কাছে হস্তান্তর করা হবে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত ২০ দফা শান্তি পরিকল্পনার দ্বিতীয় ধাপ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, হামাসের বাস্তব অস্ত্রসমর্পণ না হওয়া পর্যন্ত ‘ইয়েলো লাইন’ থেকে ইসরায়েলি বাহিনী সরানো হবে না। এই সীমারেখা অনুযায়ী গাজার একটি বড় অংশ ইসরায়েলের সাময়িক নিয়ন্ত্রণে থাকার কথা রয়েছে।
হামাস এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের নিশ্চয়তা, আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং ইসরায়েলি হামলা বন্ধ হওয়াই আলোচনার প্রধান শর্ত।
এদিকে গাজার মানবিক সংকট মোকাবিলায় দ্রুত ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মহল। জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বিষয়টিকে আশাব্যঞ্জক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।


