মাসে লাখ টাকা বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে কম্বোডিয়ায় মানবপাচারের অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। গ্রেপ্তাররা হলেন খুলনার দৌলতপুর থানার মহেশ্বরপাশা মধ্যপাড়ার বাসিন্দা মো. জিহাদ আলী লস্কর ও তার স্ত্রী সুমাইয়া সুমি ওরফে সুমি আক্তার।
পিবিআই জানায়, গ্রেপ্তারের পর আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন ওই দম্পতি।
তদন্তে জানা গেছে, জিহাদ আলী লস্কর দীর্ঘদিন কম্বোডিয়ায় অবস্থান করে স্থানীয়দের মাসে এক লাখ টাকা বেতনের চাকরির আশ্বাস দিতেন। তার প্রলোভনে পড়ে মোসতাকীম হাসান কাজী ও শেখ মনিরুল ইসলাম মুকুল জনপ্রতি ৬ লাখ ২০ হাজার টাকা করে মোট ১২ লাখ ৪০ হাজার টাকা দেন।
পরে ভুক্তভোগীদের কম্বোডিয়ায় নেওয়া হলেও প্রতিশ্রুত চাকরি দেওয়া হয়নি। অভিযোগ রয়েছে, সেখানে নিয়ে তাদের অনলাইনে প্রতারণামূলক কর্মকাণ্ডসহ বিভিন্ন অবৈধ কাজে বাধ্য করা হয়। এ সময় তাদের কোনো বেতন দেওয়া হয়নি এবং অমানবিক পরিবেশে রাখা হয়।
একপর্যায়ে ভুক্তভোগীরা কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে স্বজনদের সহায়তায় তারা দেশে ফিরে আসেন।
দেশে ফেরার পর ভুক্তভোগীরা খুলনার দৌলতপুর থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করেন। মামলার তদন্তের দায়িত্ব নেয় পিবিআই খুলনা।
পিবিআই জানায়, তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৩ আগস্ট) দিবাগত রাতে ঢাকার সাভারের হেমায়েতপুর এলাকা থেকে জিহাদ আলী লস্কর ও সুমাইয়া সুমিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তদন্তে আরও জানা গেছে, একই কৌশলে এলাকার আরও কয়েকজনকে কম্বোডিয়ায় পাঠিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে। এ ঘটনায় আরও দুটি মামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পিবিআই।
পিবিআই খুলনার বিশেষ পুলিশ সুপার রেশমা শারমিন বলেন, বিদেশে উচ্চ বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে মানবপাচারে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। বিদেশে যাওয়ার আগে চাকরি ও প্রতিষ্ঠানের তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানান তিনি।



