ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনার উপস্থিতি এখন শুধু বক্তব্যের মধ্যেই সীমাবদ্ধ এবং দেশের মানুষ আওয়ামী লীগের রাজনীতি আর গ্রহণ করবে না।
শুক্রবার (৭ আগস্ট) দুপুরে কক্সবাজারের ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষ এখন উন্নয়ন, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা চায়। কোনো ধরনের অস্থিরতা বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে দেশের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত করার চেষ্টা সফল হবে না।
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের রাজনীতি বাংলাদেশের মানুষ আর গ্রহণ করবে না। যারা অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে, তাদের এ ধরনের উদ্যোগ জনগণ সমর্থন করবে না।
এর আগে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (কউক) আবাসিক ‘ফ্ল্যাট উন্নয়ন প্রকল্প-১’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। সেখানে তিনি কক্সবাজারের পর্যটন সম্ভাবনা, সমুদ্রসম্পদ, নীল অর্থনীতি, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক গবেষণার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে বক্তব্য দেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের সমুদ্রসম্পদ ও সমুদ্রবন্দরকে যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় সম্ভব। ‘ব্লু ইকোনমি’ বা নীল অর্থনীতির সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সরকার পরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, সমুদ্রকে শুধু পর্যটন বা যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে দেখলে হবে না। এর সঙ্গে মৎস্যসম্পদ, সামুদ্রিক গবেষণা, বন্দর, জ্বালানি ও পর্যটনসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক খাতকে যুক্ত করতে হবে।
কক্সবাজারের পর্যটন উন্নয়ন প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, পরিকল্পিতভাবে জেলার সম্ভাবনা কাজে লাগাতে হবে। তবে উন্নয়নের পাশাপাশি পরিবেশ সংরক্ষণে গুরুত্ব দিতে হবে। শুধু বড় বড় ভবন নির্মাণ করলেই পর্যটনের উন্নয়ন হবে না; প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করেই অবকাঠামো গড়ে তুলতে হবে।
তিনি আরও জানান, কক্সবাজারকে ঘিরে উচ্চশিক্ষা ও সামুদ্রিক গবেষণার সুযোগ বাড়াতে সরকার মেরিন ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে। এর মাধ্যমে সামুদ্রিক শিক্ষা, গবেষণা ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
পরে কক্সবাজার মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ৫০০ শয্যার নতুন ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, নতুন ভবন চালু হলে স্থানীয় বাসিন্দা, পর্যটক ও সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সম্প্রসারিত হবে।



