রাজধানীর উত্তরায় ডিএল ফিলিং স্টেশনের ১ কোটি ২১ লাখ ২৫ হাজার টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। শুক্রবার রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় ছিনতাই হওয়া ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
শনিবার (১৫ আগস্ট) ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—মো. ইলিয়াস শিকদার (৩৬), জাফর (৩৬), মো. রবিউল ইসলাম ওরফে রুবেল (৩৪), মিন্টু রাড়ী (২৩) ও সাগর বাড়ৈ (৪০)।
ডিবি জানায়, গত ৯ আগস্ট সকালে উত্তরা পূর্ব থানাধীন ডিএল ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার আব্দুল করিমসহ চারজন ১ কোটি ২১ লাখ ৫০ হাজার টাকা ব্যাংকে জমা দিতে যাচ্ছিলেন। বিমানবন্দর থানাধীন ঢাকা-ময়মনসিংহ সড়কের ক্রাউন প্লাজার কাছে বিআরটি লেনে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা একদল ডাকাত তাদের গতিরোধ করে।
পরে অস্ত্র ও চাপাতি দিয়ে ভয় দেখিয়ে এবং আঘাত করে তাদের কাছ থেকে টাকার ব্যাগ লুট করে পালিয়ে যায় ডাকাত দল।
ঘটনার পর ডিবি ও উত্তরা ক্রাইম বিভাগ যৌথভাবে তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থেকে প্রথমে ইলিয়াস শিকদার ও জাফরকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পরে ইলিয়াসের বন্দর এলাকার ভাড়া বাসায় অভিযান চালিয়ে র্যাবের ভুয়া পরিচয়পত্র, ভেস্ট, ক্যাপ, নম্বর প্লেট, ওয়াকিটকি ও হাতকড়াসহ দুটি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ছয় রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রাজধানীর মাতুয়াইল থেকে রবিউল ইসলাম রুবেল এবং যাত্রাবাড়ীর কাজলারপাড় থেকে মিন্টু রাড়ীকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিউলের বাসা থেকে ছিনতাইয়ের তিন লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।
মিন্টুর বাসা থেকে ভুয়া র্যাব পরিচয়ে ব্যবহৃত সরঞ্জামের পাশাপাশি দুটি পিস্তল, তিনটি ম্যাগাজিন ও ১৫ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পোস্তগোলা এলাকায় অভিযান চালিয়ে সাগর বাড়ৈকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত আরও ৯ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।
ডিএমপি জানায়, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের ছিনতাইয়ের ঘটনায় সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ১২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি আগ্নেয়াস্ত্র ও র্যাবের ভুয়া পরিচয়ে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে।
ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত অবশিষ্ট টাকা উদ্ধারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।



