রংপুরের কাউনিয়ায় সুরেশ্বরী মাজারের খাদেম রহমত আলী হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জেএমবির সাত আসামির মধ্যে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে বাকি পাঁচজনকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি জাফর আহমেদ ও বিচারপতি সাথিকা হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করেন।
হাইকোর্টের রায়ে মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকা দুই জেএমবি সদস্য হলেন মাসুদ রানা ওরফে মামুন এবং লিটন মিয়া ওরফে রফিক।
অন্যদিকে আপিল শুনানি শেষে উচ্চ আদালতে খালাস পাওয়া পাঁচ আসামি হলেন জেএমবি সদস্য ইছাহাক আলী (৩৪), সাখাওয়াত হোসেন ওরফে রাহুল (৩০), সরওয়ার হোসেন সাবু ওরফে মিজান (৩০), জেএমবির উত্তরাঞ্চলের কমান্ডার বিজয় ওরফে আলী ওরফে দরজি (৩০) এবং চান্দু মিয়া (২০)।
হাইকোর্টে শুনানি চলাকালীন আসামিদের পক্ষে আইনি প্রতিনিধিত্ব করেন অ্যাডভোকেট এস এম শাহজাহান এবং ব্যারিস্টার আনোয়ার হোসেন।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার সুরেশ্বরী মাজার শরিফের খাদেম রহমত আলীকে দুর্বৃত্তরা নির্মমভাবে গলা কেটে হত্যা করে।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহতের ছেলে অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে কায়েনিয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
পুলিশি তদন্তে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সংশ্লিষ্টতা পাওয়ায় আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ রংপুরের বিশেষ জজ আদালতের বিচারক নরেশ চন্দ্র সরকার মামলার রায়ে সাত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৬ জনকে বেকসুর খালাস দেন।
নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সেই সাত আসামি ছিলেন মাসুদ রানা, ইছাহাক আলী, লিটন মিয়া, সাখাওয়াত হোসেন, সরওয়ার হোসেন সাবু, বিজয় এবং চান্দু মিয়া।
পরবর্তীতে মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের আপিলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্ট দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে পাঁচজনকে খালাস দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।



