পরীক্ষামূলক সংস্করণ

রপ্তানি বহুমুখীকরণে জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ: বাণিজ্যমন্ত্রী

বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রপ্তানি বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ ও টেকসই অংশীদারি বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা, সরবরাহ চেইনের সংকট ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় রপ্তানি বহুমুখীকরণ, উৎপাদনশীল খাতে বিনিয়োগ এবং টেকসই অংশীদারি বাড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) হংকংয়ে অনুষ্ঠিত ১১তম বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই) শীর্ষ সম্মেলনের পলিসি ডায়ালগে প্যানেল আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব কথা বলেন।

‘বিল্ডিং রেজিলিয়েন্ট ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট ফ্রেমওয়ার্কস ইন আ ডাইভার্স গ্লোবাল ল্যান্ডস্কেপ’ শীর্ষক অধিবেশনে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের জন্য অর্থনৈতিক সক্ষমতা শুধু সংকট মোকাবেলার বিষয় নয়; বরং এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করা, যা বৈশ্বিক পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে কর্মসংস্থান ও নতুন সুযোগ সৃষ্টি করতে পারে।

এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতির কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন উৎপাদনশীলতা, উদ্ভাবন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতাভিত্তিক প্রবৃদ্ধির দিকে এগোচ্ছে। এ লক্ষ্য অর্জনে চারটি বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে—রপ্তানি বহুমুখীকরণ, যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন, উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং সবুজ অর্থনৈতিক রূপান্তর।

তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ, হালকা প্রকৌশল, তথ্যপ্রযুক্তি ও ম্যান-মেইড ফাইবার খাতকে বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা উন্নয়ন এবং স্থানীয় শিল্পকে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত করতে সক্ষম বিনিয়োগকে বাংলাদেশ স্বাগত জানায়। বিআরআই কাঠামোর আওতায় অর্থনৈতিক অঞ্চল, লজিস্টিকস ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বড় ধরনের অংশীদারির সুযোগ রয়েছে।

ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, নারী উদ্যোক্তা এবং স্থানীয় ব্যবসাকে বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে যুক্ত করতে ডিজিটাল বাণিজ্য, ক্রস-বর্ডার ই-কমার্স ও ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থার সম্প্রসারণের ওপরও গুরুত্ব দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবেলায় ভবিষ্যতের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কাঠামোকে পরিবেশবান্ধব করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, নিম্ন-কার্বন উৎপাদন, টেকসই লজিস্টিকস ও সবুজ অবকাঠামোই হবে ভবিষ্যৎ অর্থনীতির ভিত্তি।

বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের বিষয়ে খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক বর্তমানে ‘কম্প্রিহেনসিভ স্ট্র্যাটেজিক কো-অপারেটিভ পার্টনারশিপ’-এ উন্নীত হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে ১৭টি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সই হয়েছে। এর আওতায় মোংলা বন্দরের আধুনিকায়ন ও চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল প্রতিষ্ঠাসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে।

চীনের সঙ্গে বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে ‘ইনভেস্ট বাংলাদেশ’ দেশটিতে প্রথম বিদেশি বিনিয়োগ কার্যালয় চালুর উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

হংকংকে বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক প্রবেশদ্বার উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, চীনের মূল ভূখণ্ড ও বৈশ্বিক বাজারের মধ্যে সেতুবন্ধন হিসেবে হংকংয়ের ভূমিকা কাজে লাগাতে হবে।

তিনি বলেন, বিচ্ছিন্নতা নয়; বরং পারস্পরিক সহযোগিতা, টেকসই উন্নয়ন ও উন্মুক্ত বাণিজ্য ব্যবস্থার মাধ্যমেই ভবিষ্যতের বৈশ্বিক অর্থনীতি শক্তিশালী করা সম্ভব।

প্রধান খবর

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকটে লংমার্চ নয়, কার্যকর পরিকল্পনা দরকার: প্রধানমন্ত্রী

গ্যাস-বিদ্যুৎ সংকট সমাধানে গাড়ির লংমার্চ নয়, কার্যকর পরিকল্পনা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কুইক রেন্টাল ব্যবস্থারও সমালোচনা করেছেন তিনি।

দুর্নীতিবাজ যত প্রভাবশালীই হোক, আইনের আওতায় আনতে হবে: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দুর্নীতিবাজদের প্রভাব-প্রতিপত্তি বিবেচনা না করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দুদককে দ্রুত তদন্ত, মামলা নিষ্পত্তি ও জনসচেতনতা বাড়াতে বলেছেন।

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে ইরানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাতে বাংলাদেশ-ইরান সম্পর্ক জোরদার, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত, ইসরায়েলি হামলার নিন্দা ও সংলাপের মাধ্যমে বিরোধ নিষ্পত্তির ওপর গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রপতি।

আসছে...