ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে মুঠোফোনে লুডু খেলা নিয়ে কথা কাটাকাটি ও মারধরের ঘটনায় রফিক মিয়া (৪০) নামে এক যুবক নিহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় উপজেলার গুনিয়াউক ইউনিয়নের নিশ্চিন্তপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত রফিক নিশ্চিন্তপুর গ্রামের মৃত লোকমান মিয়ার ছেলে। তিনি দিনমজুরের কাজ করতেন। তাঁর মা–বাবা কেউই বেঁচে নেই।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার দিকে নিশ্চিন্তপুর গ্রামের শহিদ মাস্টারের বাগানবাড়িতে বসে সালমান মিয়া ও বশির আহমেদ মুঠোফোনে লুডু খেলছিলেন। রফিক সেখানে গিয়ে তাঁদের খেলা দেখতে শুরু করেন। একপর্যায়ে রফিক বলেন, তাঁদের ‘চাল’ ভুল হচ্ছে।
এ কথা শুনে সালমান ও বশির উত্তেজিত হয়ে যান। তাঁরা রফিককে খেলা নিয়ে কথা বলতে নিষেধ করেন। পরে তাঁদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় মাহফুজ মিয়া ও ধলু মিয়া এগিয়ে গিয়ে তাঁদের শান্ত করেন।
তবে প্রায় পাঁচ মিনিট পর সালমান ক্ষিপ্ত হয়ে রফিকের গলা চেপে ধরেন বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। একপর্যায়ে তাঁকে কিলঘুষি মারা হয়। এতে রফিক মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।
পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করে নাসিরনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক রফিককে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত রফিকের চাচাতো ভাই জিলু মিয়া বলেন, ‘বশির ও সালমান মুঠোফোনে লুডু খেলছিল। খেলা চলাকালে রফিক তাদের ভুল ধরিয়ে দেয়। পরে উত্তেজিত হয়ে তারা রফিককে মারধর করে। এরপরই রফিক মারা যায়।’
এ বিষয়ে সালমান মিয়া ও বশির আহমেদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, মরদেহে কোনো আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তবে কিলঘুষির চিহ্ন আছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় থানায় এখনো কোনো মামলা হয়নি।
ওসি আরও জানান, ঘটনাস্থলে গাছ ও কাঠ ছিল। কোনো কিছুর সঙ্গে চাপ লেগে থাকতে পারে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।



