বগুড়ায় পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে ফল ব্যবসায়ী ওয়াহেদ হোসেন নিঝুমকে (৩৭) কোমল পানীয়র সঙ্গে বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর দুই বন্ধুর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নাজিম উদ্দিন (৩৭) নামে এক বন্ধুকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কাহালু উপজেলার মদনাই গ্রাম থেকে নাজিমকে গ্রেপ্তার করে বগুড়া সদর থানা-পুলিশ। নাজিম ওই গ্রামের বাসিন্দা। তিনি ও মামলার অপর আসামি মো. স্বপন একটি বেসরকারি সংস্থায় (এনজিও) বাবুর্চি হিসেবে কাজ করতেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে নাজিমকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে বগুড়ার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম তাঁর পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহার ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নিহত ওয়াহেদ হোসেন নিঝুম বগুড়া শহরের স্টেশন সড়কে তাঁর বাবার সঙ্গে ফলের আড়ত পরিচালনা করতেন।
কিছুদিন আগে ওয়াহেদ তাঁর মায়ের নামে একটি এনজিও থেকে সাত লাখ টাকা ঋণ নেন। ওই টাকা থেকে স্বপনকে দুই লাখ টাকা এবং নাজিমকে এক লাখ টাকা ধার দেন। পরে পাওনা টাকা ফেরত চাওয়াকে কেন্দ্র করে ওয়াহেদের সঙ্গে তাঁদের শত্রুতা তৈরি হয়।
পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নাজিম স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ, পাওনা টাকা শোধ না করতেই ওয়াহেদকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। হত্যাকাণ্ডের আগে নাজিম নিজের মুঠোফোনে ইন্টারনেট ঘেঁটে মানুষকে অচেতন করার ওষুধের নাম খুঁজে বের করেছিলেন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ৭ আগস্ট নাজিম ও স্বপন ওয়াহেদকে শহরের মালগ্রাম এলাকার একটি এনজিও কার্যালয়ে ডেকে আনেন। সেখানে কোমল পানীয়র সঙ্গে চেতনানাশক ও বিষাক্ত দ্রব্য মিশিয়ে তাঁকে পান করানো হলে কিছুক্ষণের মধ্যে তাঁর মৃত্যু হয় বলে অভিযোগ।
ওই রাতেই মরদেহ বস্তায় ভরে মালগ্রাম এলাকার একটি ধানক্ষেতে ফেলে রেখে পরদিন সকালে অভিযুক্তরা কর্মস্থল থেকে চাকরি ছেড়ে আত্মগোপনে চলে যান বলে পুলিশ জানিয়েছে।
এদিকে ওয়াহেদ নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর পরিবারের পক্ষ থেকে বগুড়া সদর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। নিখোঁজের পাঁচ দিন পর ১২ আগস্ট মালগ্রাম মধ্যপাড়া এলাকার একটি ধানক্ষেত থেকে বস্তাবন্দী অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পরে নিহতের স্বজনেরা মরদেহটি ওয়াহেদের বলে শনাক্ত করেন। এরপর তাঁর ভাই সোহেল হোসেন বাদী হয়ে বগুড়া সদর থানায় হত্যা মামলা করেন।
বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত চালিয়ে অভিযুক্তদের শনাক্ত করা হয়েছে। নাজিমকে গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদেই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য উন্মোচিত হয়েছে।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও বগুড়া সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শরিফুল ইসলাম বলেন, গ্রেপ্তার আসামি নাজিমকে রিমান্ডে এনে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ মামলার পলাতক আসামি স্বপনকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।



