পরীক্ষামূলক সংস্করণ

‘ঘুষ.সাইট’–কাণ্ডের পর ময়মনসিংহের দুই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বদলি

ময়মনসিংহ সদর ও নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার হঠাৎ বদলি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ‘ঘুষ.সাইট’–কাণ্ড ও অনিয়মের অভিযোগের সঙ্গে বদলির কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা নিয়ে আলোচনা হলেও শিক্ষা বিভাগ বলছে, এটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ।

ময়মনসিংহ সদর ও নান্দাইল উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার পদে সম্প্রতি রদবদল হয়েছে। গত বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের এক আদেশে নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছাকে ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় এবং সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে নান্দাইলে বদলি করা হয়।

আদেশে দুই কর্মকর্তাকে ১৫ সেপ্টেম্বরের মধ্যে নতুন কর্মস্থলে যোগ দিতে বলা হয়েছে। অন্যথায় ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে তাঁদের তাৎক্ষণিকভাবে অবমুক্ত বলে গণ্য করা হবে।

এই বদলির ঘটনা সামনে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, ‘ঘুষ.সাইট’–কাণ্ড এবং বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতেই কি এই রদবদল করা হয়েছে। তবে শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, বদলিটি নিয়মিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়ার অংশ।

‘ঘুষ.সাইট’–কাণ্ডের সূত্রপাত ময়মনসিংহের এক কিশোর শাহেদ শরীফ আহমেদের অভিজ্ঞতা থেকে। মায়ের মৃত্যুর পর সরকারি পেনশনের টাকা তুলতে এবং নিজের পাসপোর্ট করতে গিয়ে বারবার ঘুষের দাবির মুখে পড়ার অভিযোগ করেন তিনি। প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘুষের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে সম্প্রতি তিনি ‘ঘুষ.সাইট’ নামে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করেন।

শাহেদ শরীফ ময়মনসিংহ ক্যান্টনমেন্ট এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বাবার সঙ্গে থাকে। সে এ লেভেলের শিক্ষার্থী। তাঁদের গ্রামের বাড়ি কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার পূর্বপাড়া এলাকায়।

শাহেদের মা আমিনা খাতুন ময়মনসিংহ সদরের আজমতপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। ২০২২ সালের ১৬ ডিসেম্বর শারীরিক অসুস্থতায় তিনি মারা যান।

‘ঘুষ.সাইট’ তৈরির নেপথ্যের কারণ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশের পর গত ৩১ আগস্ট ময়মনসিংহ সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের দুই কর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছিল।

তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা সিকদার মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ শনিবার বিকেলে বলেন, ‘যথাযথভাবে তদন্ত শেষে ৬ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। তবে তদন্তে কী পেয়েছি বা কী সুপারিশ করেছি, সে বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।’

এরপরই দুই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বদলির বিষয়টি সামনে আসে।

সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীন ২০২৩ সালের ১৯ জানুয়ারি ময়মনসিংহ সদরে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা হিসেবে যোগ দিয়েছিলেন। বদলির বিষয়ে জানতে শনিবার বিকেলে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

অন্যদিকে, ‘ঘুষ.সাইট’-এর নির্মাতা শাহেদ শরীফ জানিয়েছেন, সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনের বদলির বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তাঁর পক্ষ থেকে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যক্তিগতভাবে কোনো অভিযোগও করা হয়নি বলে জানান তিনি।

শাহেদ শরীফ শনিবার বলেন, ‘উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা বদলি হওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই। তাঁর বিরুদ্ধে আমার পক্ষ থেকে ব্যক্তিগতভাবে কোনো অভিযোগও ছিল না। তিনি যদি শাস্তি পাওয়ার মতো কোনো অপরাধ করে থাকেন, তবে সিদ্ধান্তটি মানা যায়। আর যদি কিছু না করে থাকেন, তাহলে এটি যৌক্তিক নয়। যাঁরা প্রকৃত অপরাধী, তাঁরা যদি এখনো স্ব স্ব পদে বহাল থাকে, তবে সেটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’

অন্যদিকে, নান্দাইল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ফজিলাতুন নেছা ২০২৩ সালের ১ ফেব্রুয়ারি ওই পদে যোগ দেন। গত ২৪ জুন নান্দাইল উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়।

অভিযোগে বলা হয়, জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মেরামত ও সংস্কারের বরাদ্দ থেকে সিসি ক্যামেরা কেনার নামে টাকা উত্তোলন ও বিদ্যালয় থেকে অর্থ আদায় করা হয়েছে। নির্বাচন কমিশন থেকে সিসি ক্যামেরার জন্য বরাদ্দ আসার পরও আগের টাকা নেওয়ার ক্ষেত্রে অনিয়মের অভিযোগ করা হয়।

এ ছাড়া উপজেলা শিক্ষা অফিসের জন্য আসবাব কেনার বরাদ্দের টাকা যথাযথভাবে ব্যবহার না করা এবং বিভিন্ন বিদ্যালয়ের বরাদ্দ থেকে টাকা নেওয়ার অভিযোগও ছিল।

ফজিলাতুন নেছার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ করা হয়, বদলি নীতিমালা অনুসরণ না করে শিক্ষক বদলি ও রিলিজ, নিয়মবহির্ভূতভাবে শিক্ষকদের সাময়িক সংযুক্তি এবং শিক্ষা কর্মকর্তার কক্ষে শীতাতপনিয়ন্ত্রিত যন্ত্র বা এসি লাগানো হয়েছে।

তাঁর বিরুদ্ধে কর্মস্থলে অবস্থান না করে ময়মনসিংহ শহরে বসবাস করে অফিস করার অভিযোগও করা হয়। একই সঙ্গে উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয়ের সঙ্গে যোগসাজশ করে নিয়োগ না দিয়েই আউটসোর্সিং কর্মীদের বিল উত্তোলনের অভিযোগ ওঠে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মজিব আলম গত ২ সেপ্টেম্বর সরেজমিনে তদন্ত করেন।

তবে ফজিলাতুন নেছা তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি সময় হয়ে যাওয়ায় প্রায় দেড় মাস আগে তিনি বদলির জন্য আবেদন করেছিলেন। তাঁর আবেদনে ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় বদলির কথা উল্লেখ ছিল।

তবে নতুন কর্মস্থল ময়মনসিংহ সদর উপজেলায় এখনো যোগ দেননি তিনি।

অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ফজিলাতুন নেছা বলেন, বেনামি অভিযোগের বিষয়টি কর্তৃপক্ষ তদন্ত করছে। তাঁর দাবি, ওই তদন্তের সঙ্গে তাঁর বদলির কোনো সম্পর্ক নেই।

দুই উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার বদলির বিষয়ে ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, বদলির আদেশ প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে হয়েছে। জেলা কার্যালয় থেকে এই বদলি করা হয়নি। ফলে কী কারণে বদলি করা হয়েছে, তা অধিদপ্তর থেকেই জানা যাবে।

শফিকুল ইসলাম বলেন, সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ময়মনসিংহে প্রায় চার বছর ধরে চাকরি করছেন। সাধারণত একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ নেই।

অন্যদিকে নান্দাইল থেকে ময়মনসিংহ সদরে বদলি হওয়া ফজিলাতুন নেছা প্রায় এক মাস আগে ময়মনসিংহে বদলির জন্য আবেদন করেছিলেন। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই দুজনের কর্মস্থল পরিবর্তন করা হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

‘ঘুষ.সাইট’ নিয়ে ঘটনা বা এ-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের কারণে সদর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মনিকা পারভীনকে বদলি করা হয়েছে কি না, এমনটি মনে করেন না জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘ওই কারণে বদলি করা হলে তাঁকে আরও দূরে দেওয়া হতো বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতো।’

‘ঘুষ.সাইট’–সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে শফিকুল ইসলাম বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকে তদন্ত করে একটি প্রতিবেদন দেওয়া হয়েছে।

তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কল্যাণ ট্রাস্টের টাকা উত্তোলনের জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপজেলা শিক্ষা কার্যালয়ে কোনো আবেদনই করেননি। গত মাসের ৩ তারিখ পর্যন্ত এ ধরনের কোনো আবেদন জমা পড়েনি।

শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কল্যাণ ট্রাস্টের টাকার জন্য আবেদনই যদি না করা হয়ে থাকে, তাহলে ঘুষ চাইবে কে, নেবে কে?’

প্রধান খবর

স্পেনে দুই উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষ, নিহত ১০

স্পেনের টোলেডো প্রদেশে দুই উচ্চগতির ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন। বুধবার সকালের এ দুর্ঘটনার পর মাদ্রিদ ও আন্দালুসিয়ার মধ্যে রেল চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সাগর-রুনি হত্যা: ১৪ বছরেও মেলেনি খুনিদের পরিচয়

সাংবাদিক দম্পতি সাগর-রুনি হত্যা মামলায় ১৪ বছরেও খুনিদের পরিচয় ও হত্যার উদ্দেশ্য নিশ্চিত হয়নি। তদন্ত শেষ করতে টাস্কফোর্সকে আরও ছয় মাস সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট।

বাংলাদেশে কার্যালয় খুলতে জেবিআইসিকে প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ

জাপানের টোকিওতে জেবিআইসি গভর্নর আমাকাওয়া কাজুহিকোর সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি, আইসিটি ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং বাংলাদেশে জেবিআইসির কার্যালয় খোলার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয়।

আসছে...