নরসিংদীর মনোহরদীতে ডিমবোঝাই পিকআপভ্যান লুটের ঘটনায় আন্তঃজেলা ডাকাত দলের পাঁচ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ সময় লুণ্ঠিত পিকআপভ্যান, ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত পিকআপভ্যান, ৯৮টি খালি ডিমের ক্যারেট, নগদ টাকা, দেশীয় অস্ত্র ও মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে মনোহরদী থানায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান নরসিংদীর সহকারী পুলিশ সুপার (শিবপুর সার্কেল) রায়হান সরকার।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ের ইমন (২৮), মো. রিফাত হৃদয় (২৮), কুমিল্লার দেবিদ্বারের আব্দুল্লাহ আল মুন্না (রুমান), কিশোরগঞ্জের ইটনার রহমত আলী (জিল্লুর) এবং নোয়াখালীর সেনবাগের জসিম উদ্দিন।
পুলিশ জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে ইটাখলা-মঠখলা আঞ্চলিক সড়কের মনোহরদীর একদুয়ারিয়া ইউনিয়নের চঙ্গভান্ডা এলাকায় ডাকাতরা পিকআপভ্যান দিয়ে ডিমবোঝাই আরেকটি পিকআপের গতিরোধ করে।
এ সময় ডিমবোঝাই গাড়ির চালক ও তার সহযোগীকে দেশীয় অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে হাত-পা বেঁধে ডাকাতদের ব্যবহৃত গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়। পরে তাদের হেতেমদী-সাগরদী বাইপাস সড়কের পাশে ফেলে যায় ডাকাতরা।
ঘটনায় ডিমের গাড়ির মালিক মো. মফিজুল ইসলাম বাদী হয়ে মনোহরদী থানায় মামলা করেন। পরে নরসিংদীর পুলিশ সুপারের নির্দেশে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জ ও নোয়াখালীতে অভিযান চালানো হয়।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁও উপজেলার কাঁচপুর মহাসড়ক থেকে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শনিবার নোয়াখালীর সেনবাগ দক্ষিণ বাজার থেকে লুণ্ঠিত ডিমের ক্রেতা ও ডাকাতদের পরিচিত জসিম উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশের অভিযানে জসিমের হেফাজত থেকে লুণ্ঠিত পিকআপভ্যান, ৯৮টি খালি ডিমের ক্যারেট ও ডিম বিক্রির ১০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
সহকারী পুলিশ সুপার রায়হান সরকার জানান, গ্রেপ্তাররা আন্তঃজেলা ডাকাত দলের সদস্য। তারা বিভিন্ন জেলার সড়ক ও মহাসড়কে নিয়মিত ডাকাতি করত।
গ্রেপ্তারদের আদালতে সোপর্দ করা হলে আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সংবাদ সম্মেলনে মনোহরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর বাদশা, এসআই শহীদুজ্জামান ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মোবারক হোসেন উপস্থিত ছিলেন।



