টাঙ্গাইলের মির্জাপুরে প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় এক কলেজছাত্রীকে পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে হত্যা, তুলে নিয়ে গুম এবং গুলি করার হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় কলেজছাত্রীর বড় বোন গত ৭ সেপ্টেম্বর মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, মির্জাপুর উপজেলার গোড়াই ইউনিয়নের সোহাগপাড়া গ্রামে কলেজছাত্রীর বাড়িতে পেট্রল ঢেলে ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হয়েছে। একই সঙ্গে মুঠোফোনে ওই ছাত্রী ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে যার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ উঠেছে, তাঁর নাম কাজল সরকার। তিনি গোড়াই গন্ধব্যপাড়া এলাকার চিত্তরঞ্জন সরকারের ছেলে।
জানা গেছে, সোহাগপাড়া গ্রামের ওই মুসলিম পরিবারের কলেজছাত্রী এবং গোড়াই গন্ধব্যপাড়া এলাকার কাজল সরকার গোড়াই উচ্চ বিদ্যালয়ে একসঙ্গে পড়াশোনা করতেন। বর্তমানে ওই ছাত্রী মির্জাপুর ভবানী প্রসাদ সাহা সরকারি কলেজে স্নাতক (বি এ) পড়ছেন।
সম্প্রতি ওই কলেজছাত্রীর পরিবার তাঁর বিয়ের উদ্যোগ নেয়। অভিযোগ রয়েছে, এরপর কাজল সরকার ছেলে পক্ষ এবং মেয়ের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতে শুরু করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৭ সেপ্টেম্বর রাতে কলেজছাত্রীর বাড়ির বসতঘর ও উঠানে পেট্রল ঢেলে ভীতি সৃষ্টি করা হয়। এর আগে বা ওই সময় মুঠোফোনে কলেজছাত্রীকে কাজল সরকার হুমকি দেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে বলা হয়, কাজল সরকার সোহাগপাড়ার চারজনকে একটি ভবনের ভেতরে পেট্রল দিয়ে পুড়িয়ে মারার কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘তোর বংশকেও নির্বংশ করব।’
এতে কলেজছাত্রীর পরিবার আতঙ্কিত হয়ে পড়ে।
এর আগে গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হিসেবে কলেজছাত্রীর মামা, বড় বোন ও বোন জামাই কাজল সরকারের বাড়িতে গিয়ে তাঁর পরিবারের সঙ্গে কথা বলতে যান।
অভিযোগকারীদের দাবি, তাঁদের বাড়িতে দেখে কাজল সরকার গালিগালাজ শুরু করেন এবং একপর্যায়ে কিল-ঘুষি মারেন। পরে ঘর থেকে কুড়াল এনে তাঁদের ওপর হামলার চেষ্টা করেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
কাজলের বাবা চিত্তরঞ্জন সরকারের সহায়তায় তাঁরা সেখান থেকে ফিরে আসেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর পরের দিন, ৭ সেপ্টেম্বর, কাজল সরকারকে আসামি করে কলেজছাত্রীর বড় বোন বাদী হয়ে মির্জাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
অভিযোগকারীরা জানান, লিখিত অভিযোগ দেওয়ার রাতেই তাঁদের বাড়ি ও ঘরে পেট্রল ঢালা হয়। বিষয়টি পরিবারের পক্ষ থেকে পুলিশকে জানানো হয়েছে।
এ বিষয়ে কাজল সরকার বলেন, সপ্তম বা অষ্টম শ্রেণিতে একই স্কুলে পড়ার সময় তাঁদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। এখন ওই মেয়ে তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চান না বলে জানান।
কলেজছাত্রীর মামা, বড় বোন ও বোন জামাইকে মারধর করার বিষয়ে জানতে চাইলে কাজল সরকার বলেন, ‘তারাই আমাকে মেরেছেন।’
কলেজছাত্রীর বাড়িতে পেট্রল দেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে কাজল সরকার বলেন, ‘অনেক আগে দিছিলাম। এখন ঝামেলা নাই।’
কীভাবে সেখানে গিয়েছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্লেনে গেছিলাম, রেখে দিলাম’—এ কথা বলেই ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা মির্জাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) জাবেদ পারভেজ বলেন, ‘তদন্ত চলছে। ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, বর্তমানে তিনি ছুটিতে আছেন। কলেজছাত্রীর বাড়িতে পেট্রল দেওয়ার দিন-তারিখ বের করার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
অভিযোগের বাদী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, কাজল তাঁর বোনকে মুঠোফোনে আগুনে পুড়িয়ে মারবেন, গুলি করবেন এবং তুলে নিয়ে যাবেন—এমন হুমকি দিয়েছেন। এ ছাড়া বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে সম্পর্ক করতে চেয়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ছেলে হিন্দু, আমরা মুসলিম। কিভাবে সম্পর্ক হয়। থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর কোন আপডেট পাচ্ছি না। আমরা চার বোন। বাবা নাই, ভাই নাই। শুধু বৃদ্ধ মা আছে। আমরা অনেক ভয়ে আছি।’



