বরগুনার বেতাগী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আগুনের আতঙ্কে হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নামার সময় ১৫ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যালয়ের সাইক্লোন শেল্টার ভবনে এ ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে পরে বিদ্যালয়ে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সাইক্লোন শেল্টার ভবনের তৃতীয় তলায় তৃতীয় শ্রেণির কক্ষের জানালার পাশে বৈদ্যুতিক তারে আগুনের ঝলক দেখতে পায় শিক্ষার্থীরা।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘আগুন, আগুন’ বলে চিৎকার করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে শুরু করে। খবর ছড়িয়ে পড়লে অন্য শ্রেণির শিক্ষার্থীরাও আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। তারাও হুড়োহুড়ি করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামার সময় ১৫ জন আহত হয়।
তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী মেহেরাজাবিন দিনা জানায়, আগুনের ঝলক দেখে তারাই প্রথমে চিৎকার করে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার জানান, আহতদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সুরাইয়া আক্তারকে বেতাগী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
তিনি জানান, পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হুমায়রা এবং প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী সিথিসহ অন্য আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরে গেছে।
প্রধান শিক্ষক জেসমিন আক্তার বলেন, ‘বৈদ্যুতিক মিটারে শর্টসার্কিট হয়েছিল। মিটার থেকে স্পার্ক হতে দেখে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। চারতলা ভবন থেকে দ্রুত নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছে। ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।’
তবে বিদ্যালয়ে আগুন লাগেনি বলে জানান প্রধান শিক্ষক। পরিস্থিতি তদারকি এবং পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে শিক্ষকদের বিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী সার্থক দাসের মা শুভ্রা রানী দাস বলেন, ‘বিদ্যালয়ে আগুন লাগার খবর পেয়ে আতঙ্কিত হয়ে তাড়াহুড়া করে দৌড়ে এসেছি।’
বেতাগী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. নিজাম উদ্দিন জানান, ঘটনাটি কেন ও কীভাবে ঘটেছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ঘটনার পর ওই দিনের জন্য বিদ্যালয় ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
তিনি জানান, এ ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ঘটনার সঠিক কারণ অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।



