মোবাইল আর্থিক সেবা প্রতিষ্ঠান নগদ লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক তানভীর আহমেদ মিশুকসহ অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা ৭৮৬ কোটি ৩৯ হাজার ২৮৪ টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
নগদ লিমিটেডের আগের নাম ছিল থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেড।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ সেপ্টেম্বর ঢাকার মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ মো. শাহজাহান কবির এ আদেশ দেন। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য জানা যায়।
দুদকের আবেদনের বিষয়ে সংস্থাটির আইনজীবী মীর আহমেদ আলী সালাম জানান, ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের পক্ষে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক ও অনুসন্ধানকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান মিরাজ শেয়ার অবরুদ্ধের আবেদন করেন। আদালত বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে গ্রহণ করে ওই দিনই আদেশ দেন।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের মাধ্যমে সরকারি অর্থ বের করে নেওয়া, বৈধ চ্যানেলে বৈদেশিক মুদ্রা না এনে অনাবাসী বিনিয়োগকারীদের অনুকূলে শেয়ার হস্তান্তর, জিরো কুপন বন্ডের অর্থ দিয়ে বিদেশি ঋণ পরিশোধ, বিদেশে অর্থ পাচার এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তানভীর আহমেদ মিশুকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চলছে।
দুদকের অনুসন্ধানে প্রাথমিকভাবে দেখা যায়, ২০২১ সালের ১ এপ্রিল থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত নগদের মাধ্যমে বিতরণ করা সরকারি ভাতার অব্যবহৃত অর্থ সফটওয়্যার জালিয়াতির মাধ্যমে ২৪ হাজার ১৫৯টি ভুয়া উদ্যোক্তার ওয়ালেটে স্থানান্তর করা হয়।
পরে ওই অর্থ ৬৪৮টি ভুয়া ডিএসও এবং ৩৪টি অননুমোদিত ডিস্ট্রিবিউটরের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে দুদকের আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, এ প্রক্রিয়ায় প্রাথমিকভাবে ১ হাজার ৭০৬ কোটি ৩৮ লাখ ৫৪ হাজার ২২৯ টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
দুদকের আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, আত্মসাৎ করা অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে লেয়ারিংয়ের মাধ্যমে থার্ড ওয়েভ টেকনোলজিস লিমিটেডের ১৬ কোটি ৮৪ লাখ ৩৪ হাজার ১২৭টি শেয়ার কেনায় ব্যবহার করা হয়েছে।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব শেয়ার বিক্রি বা স্থানান্তরের চেষ্টা করছেন। শেয়ার বিক্রি করে অর্থ বিদেশে পাচারের আশঙ্কাও রয়েছে বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এ ছাড়া সংশ্লিষ্ট বিদেশি প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকেরা শেয়ার কেনার জন্য বিদেশ থেকে বৈধভাবে অর্থ এনেছেন—এমন তথ্যও অনুসন্ধানে পাওয়া যায়নি বলে দুদক জানিয়েছে।
দুদকের আবেদনে বলা হয়, অনুসন্ধান শেষ হওয়ার আগে শেয়ারগুলো হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বিক্রি হয়ে গেলে রাষ্ট্রের আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। এ কারণে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ও দুদক বিধিমালা অনুযায়ী শেয়ারগুলো অবরুদ্ধ করা প্রয়োজন।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত অভিযোগসংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে থাকা মোট ৭৮৬ কোটি ৩৯ হাজার ২৮৪ টাকার শেয়ার অবরুদ্ধ করার আদেশ দেন।



