ঢাকায় কর্মসূচিতে হামলার প্রতিবাদে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধ করেছেন ইসলামী ব্যাংকের চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। সোমবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলা এ অবরোধে মহাসড়কে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে এবং ভোগান্তিতে পড়েন যাত্রীরা।
কর্ণফুলী উপজেলার শিকলবাহা ওয়াইজংশন এলাকা থেকে মইজ্জারটেক পর্যন্ত চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে দীর্ঘ সময় যান চলাচল বন্ধ থাকে। একই কারণে পিএবি সড়কেও যানবাহনের চাপ ও স্থবিরতা তৈরি হয়।
অবরোধ চলাকালে রাত ৮টার দিকে পটিয়া আসনের সংসদ সদস্য এনামুল হক আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি তাঁদের আশ্বস্ত করে বলেন, ‘আমরা আপনাদের সঙ্গে আছি, শুরু থেকে ছিলাম। যাঁরা আপনাদের ভাইদের হামলা করেছে, তাঁদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার আহ্বান থাকবে।’
পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অনুরোধে আন্দোলনকারীরা অবরোধ প্রত্যাহার করে নেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কর্ণফুলী জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) নাসিফ ইনসান।
অবরোধের কারণে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক এবং পিএবি সড়কে—পটিয়া, আনোয়ারা ও বাঁশখালী সড়ক—শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। এতে শহরের কর্মক্ষেত্র থেকে বাড়ির উদ্দেশে ফেরা মানুষকে দীর্ঘ সময় ভোগান্তিতে পড়তে হয়।
জানা গেছে, সোমবার সকালে ঢাকায় ইসলামী ব্যাংক থেকে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরি পুনর্বহালের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির আয়োজন করেন। তবে ওই কর্মসূচিতে ‘গ্রাহক ফোরাম’ নামের একটি সংগঠনের ব্যানারে হামলা করা হয় বলে অভিযোগ করেন চাকরিচ্যুতরা।
এর প্রতিবাদেই সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক অবরোধের কর্মসূচি পালন করেন তাঁরা।
বিক্ষুব্ধ ব্যাংককর্মী মোকতার রশীদ, মেহেরুন্নেছা ও মাহমুদ হুমায়ূন সিকদার অভিযোগ করে বলেন, ‘আজ এক বছর হয়ে গেল। চাকরি ফেরত দেওয়া দূরের কথা, উল্টো আমাদের ওপর হামলা করা হচ্ছে। এমন চলতে থাকলে আমরা বৃহত্তর আন্দোলনে যাব।’
পুলিশের অনুরোধ এবং সংসদ সদস্যের আশ্বাসের পর রাত ৮টার দিকে অবরোধ তুলে নেওয়া হলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।



