প্রায় সাত বছর পর ঠাকুরগাঁওয়ে দশম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে অপহরণ ও ধর্ষণের দায়ে মো. রুবেল ইসলাম ওরফে রুবেল রানাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও দুই বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার ঠাকুরগাঁওয়ের শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) আলী মনসুর আসামির অনুপস্থিতিতে এ রায় ঘোষণা করেন। আদালতের সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পরে এ তথ্য জানানো হয়।
দণ্ডপ্রাপ্ত রুবেল রানা ঠাকুরগাঁওয়ের রুহিয়া থানার খড়িবাড়ী (বদ্বেশ্বরী) গ্রামের বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় তিনি পলাতক থাকায় তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৯ সালের ৭ নভেম্বর বিকেলে রুহিয়ার ঢোলারহাট বালিকা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক ছাত্রী আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার জন্য ঢোলারহাট বাজারের তিন রাস্তার মোড়ের অটোচার্জার স্ট্যান্ডে যায়।
এ সময় রুবেল তাকে বিয়ের কথা বলে সঙ্গে নিয়ে যান। পরে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়। স্থানীয়দের চাপের মুখে পরদিন রুবেল মেয়েটিকে অটোতে তুলে ফেরত পাঠান।
এরপর ভুক্তভোগীর পরিবার রুহিয়া থানায় মামলা করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে আদালত আসামির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন।
আদালত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৭ ধারায় অপহরণের দায়ে রুবেলকে ১৪ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেন। অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।
একই আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের দায়ে তাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। দুটি সাজা একইসঙ্গে কার্যকর হবে।
রায়ে আসামির ওপর ধার্য করা এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য হবে বলেও জানানো হয়েছে। ক্ষতিপূরণ আদায়ের জন্য আসামির স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে অর্থ ট্রাইব্যুনালে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন স্পেশাল পিপি মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল এবং আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট মো. আবু নাঈম।



