রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সিরডাপ ভবনে ‘পারস্যুইং ক্লাইমেট জাস্টিস: রোড টু ইউএনজিএ’ শীর্ষক আলোচনায় এ কথা জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
তিনি বলেন, প্রায় এক দশক ধরে ১৩ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়ে আসছে বাংলাদেশ। এতে জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের ওপর বাড়তি পরিবেশগত চাপ তৈরি হয়েছে। এ কারণে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ ও স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রয়োজন।
শামা ওবায়েদ ইসলাম জানান, আসন্ন কপ সম্মেলনে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনসহ পরিবেশগত বিপর্যয় মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চাইবেন প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে জলবায়ু অর্থায়ন আরও অনুদানভিত্তিক করাসহ বাংলাদেশের চারটি প্রধান দাবি তুলে ধরা হবে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু অর্থায়ন ঋণ হিসেবে নয়, কার্যকর সহায়তা হিসেবে চায়। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় অর্থায়ন সহজ ও অনুদানভিত্তিক করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, পাটজাত পণ্যকে পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল ন্যাচারাল ফাইবার হিসেবে বিশ্বব্যাপী তুলে ধরা প্রয়োজন। জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় পাট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
সরকারের রাজনৈতিক অঙ্গীকার অনুযায়ী, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলেও আশাবাদ জানান শামা ওবায়েদ ইসলাম।
জলবায়ু ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের চারটি প্রধান দাবির মধ্যে রয়েছে—প্রতিশ্রুতির পরিবর্তে লস অ্যান্ড ড্যামেজ ফান্ড ও ক্লাইমেট ফান্ডের অর্থ বাস্তবে পৌঁছানো; জলবায়ু অর্থায়ন সহজ, অনুদানভিত্তিক ও ঋণের বোঝামুক্ত করা; শ্রমিক ও জনগোষ্ঠীর স্বার্থ রক্ষা করে ন্যায্য জ্বালানি রূপান্তর নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু নীতিতে জেন্ডারভিত্তিক ও নারী-সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি নিশ্চিত করা।



