Southeast University-এর শিক্ষক সুফি শাহরিয়ার হাসানের বিরুদ্ধে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেছেন এক শিক্ষার্থী। তার দাবি, শিক্ষকের কিছু কথাবার্তা ও আচরণে তিনি অস্বস্তি এবং নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করেছেন।
অন্যদিকে, অভিযোগটি সরাসরি অস্বীকার করেছেন শিক্ষক সুফি শাহরিয়ার হাসান। তার দাবি, তিনি নির্দোষ এবং একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি করতে ওই শিক্ষার্থীকে ব্যবহার করছে।
ঘটনার সূত্রপাত গত ৯ জুন। ওই দিন বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ করেন ওই শিক্ষার্থী। অভিযোগে শিক্ষকের বিভিন্ন কথাবার্তা ও আচরণের বিষয় তুলে ধরেন তিনি।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর দাবি, এসব ঘটনায় তিনি অস্বস্তিবোধ করেন এবং বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে জানান। অভিযোগের বিষয়ে কিছু তথ্য ও প্রমাণ aএর কাছেও এসেছে।
পরে অভিযোগটি তদন্তে নেয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। তবে তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারী।
তার দাবি, তদন্ত চলাকালে তার করা অভিযোগের বিষয়টি সহপাঠী, শিক্ষক, সিনিয়র ও জুনিয়রদের মধ্যেও ছড়িয়ে পড়ে। এতে নিজের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন তিনি।
এদিকে, allcrime.tv-এর সঙ্গে কথা বলে অভিযোগের সঙ্গে নিজের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেছেন শিক্ষক সুফি শাহরিয়ার হাসান।
তার বক্তব্য, অভিযোগটি পুরোপুরি ভিত্তিহীন এবং তিনি কোনো ধরনের যৌন নিপীড়নের সঙ্গে জড়িত নন।
শিক্ষকের দাবি, একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে তাকে হয়রানি করার উদ্দেশ্যে এই অভিযোগ তৈরি করেছে। ওই শিক্ষার্থীকে ব্যবহার করেই তার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বিষয়টি গড়িয়েছে আইনগত প্রক্রিয়াতেও। অভিযোগকারী শিক্ষার্থীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানায় মামলা করার জন্য অভিযোগ দায়ের করেছেন তিনি।
allcrime.tv-এর হাতে আসা মামলার কপিতেও যৌন নিপীড়ন-সংক্রান্ত অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে।
এদিকে, অভিযোগের দ্রুত নিষ্পত্তি ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্দোলন করেছেন একদল শিক্ষার্থী। আন্দোলনের একপর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে আলোচনা করে।
আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দাবি, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত হয়ে থাকলে তার ফলাফল এবং সংশ্লিষ্ট রিপোর্ট প্রকাশ করে বিষয়টি পরিষ্কার করা উচিত।
তাদের দাবি, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের জানিয়েছে—অভিযোগের বিষয়টি ডিবির কাছে পাঠানো হয়েছিল এবং অভিযোগের পক্ষে প্রয়োজনীয় প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
তবে এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারী শিক্ষার্থী চাইছেন তার অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। অন্যদিকে অভিযুক্ত শিক্ষক বলছেন, তিনি নির্দোষ এবং একটি সংঘবদ্ধ চক্রের পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার।
এখন অভিযোগের সত্যতা এবং শিক্ষকের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে কী প্রমাণ পাওয়া গেছে—তা নির্ধারিত হবে তদন্ত ও আইনগত প্রক্রিয়ায়।



