ধানমন্ডির ‘আবাহনী মাঠ’ নামে পরিচিত ক্রিকেট মাঠের ৯.৬৪৯ একর জমির বরাদ্দ বাতিল করেছে সরকার। মাঠটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এখন যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীনে থাকবে।
কাগজে-কলমে মাঠটির নাম ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠ। মোট ১০.৬৪৯ একর জায়গার মধ্যে ১ একর জমি আবাহনী লিমিটেডের নিজস্ব। বাকি ৯.৬৪৯ একর জমি ১৯৯৮ সালে সরকারের কাছ থেকে ৯৯ বছরের জন্য বরাদ্দ পেয়েছিল ক্লাবটি।
তবে জমির ‘সালামি’ বা নির্ধারিত কিস্তির টাকা বকেয়া থাকার কথা উল্লেখ করে গত ১১ মে আবাহনীর বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত জানিয়ে চিঠি দেয় গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়।
বরাদ্দ বাতিলের পর মাঠটির রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব সরকার গ্রহণ করেছে। এ বিষয়ে জমির মূল মালিক গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে। এখন থেকে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় মাঠটির দেখভাল করবে।
একই সঙ্গে ‘শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব মাঠ’ নামে পরিচিত আগের ধানমন্ডি মাঠটি নিয়েও দুই মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমঝোতা চুক্তি হয়েছে।
১৯৭২ সালে ক্লাব প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধানমন্ডির এই মাঠের এক পাশে আবাহনীর ফুটবল দলের অনুশীলন হতো। অন্য পাশে ছিল ক্রিকেট মাঠ। সেখানে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগসহ ঘরোয়া ক্রিকেটের বিভিন্ন আসর অনুষ্ঠিত হতো।
মাঠের ক্রিকেট অংশটি একসময় সর্বসাধারণের খেলাধুলার জন্যও উন্মুক্ত ছিল। তবে কয়েক বছর আগে মাঠের এক পাশে আবাহনী ক্রীড়া কমপ্লেক্স নির্মাণ শুরু হওয়ার পর মাঠটির আগের চেহারা বদলে যায়।
২০২৪ সালে সরকার পরিবর্তনের পর কমপ্লেক্সটির অবশিষ্ট প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কাজ আর এগোয়নি।
বরাদ্দের শর্ত অনুযায়ী আবাহনীকে সরকারকে দুটি খাতে অর্থ পরিশোধ করতে হতো। এর একটি ছিল সালামি এবং অন্যটি ভূমি কর।
সর্বশেষ হিসাবে ভূমি কর ছিল বছরে ৬৩ হাজার ৯০০ টাকা এবং সালামি ছিল বছরে ৫০ হাজার টাকা।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের চিঠিতে বলা হয়েছে, বরাদ্দের শর্ত ভঙ্গ হওয়ায় আবাহনী লিমিটেডের অনুকূলে দেওয়া ধানমন্ডি ক্রিকেট মাঠের বরাদ্দ এবং সম্পাদিত ইজারা চুক্তি বাতিল করা হয়েছে।
গত ৩ আগস্ট ইজারা পুনর্বহালের জন্য আবাহনীর তৎকালীন ফুটবল ম্যানেজার সত্যজিৎ দাস রূপু আবেদন করেছিলেন। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি বলে জানিয়েছেন ক্লাবটির ফুটবল কমিটির চেয়ারম্যান ও প্রশাসক আশিষ রায় চৌধুরী।
আশিষ রায় চৌধুরীর দাবি, ২০২৬ সাল পর্যন্ত ভূমি কর পরিশোধ করা হয়েছে এবং সালামির টাকা পরিশোধ করা হয়েছে ২০২৪ সাল পর্যন্ত।
তিনি বলেন, ‘নিয়ম অনুযায়ী দুই বছরের সালামি বকেয়া পড়লে বরাদ্দ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হবে। কিন্তু আমাদের বকেয়া বাকি শুধু ২০২৫ সালের। এ বছর আমরা ব্যাংকে গিয়ে দেখি সিস্টেমে সালামি ফি নিচ্ছে না, পোর্টাল ব্লক। অথচ দেড় শতাংশ জরিমানা দিয়ে এক বছরের বকেয়া পরিশোধ করার নিয়ম আছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই সুযোগ আমরা পাইনি।’
আবাহনীর অন্যতম পরিচালক শেখ বশীর আহমেদ দাবি করেন, বরাদ্দ বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আবাহনী বিষয়টি জানতে পারে অনেক পরে।
শেখ বশীর আহমেদ বলেন, ‘এটা করেছেন আসিফ সাহেব (সাবেক ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া)। তিনি তখন এই বরাদ্দ বাতিল করেন। আমরা তা জেনেছি অনেক পরে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সমঝোতা স্মারক অনুষ্ঠানে দুজন মন্ত্রীই বলেছেন, জটিলতার জন্যই বরাদ্দ বাতিল করে যুব মন্ত্রণালয়ের অধীনে দেওয়া হয়েছে। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় আমাদের বলেছে, এটা আবাহনীকে আবার বরাদ্দ দেওয়া হবে।’
এ বিষয়ে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন, ‘আমরা মাঠটা উন্মুক্ত করে দেব, যাতে সবাই খেলতে পারে। যে কাঠামো আছে, সেটা রেখেই কীভাবে মাঠে খেলাধুলা রাখা যায়, সেই ব্যবস্থা করা হবে।’
ফলে আবাহনী মাঠের মালিকানা ও বরাদ্দের কাঠামোয় পরিবর্তন এলেও মাঠটি খেলাধুলার জন্য উন্মুক্ত রাখার কথা জানিয়েছে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়।



