ভোলায় কিশোর রেদোয়ান রাসেল হত্যা মামলায় প্রায় ১৯ বছর পর দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সদর উপজেলার পশ্চিম ইলিশা ইউনিয়নের পাঙাশিয়া গ্রামের সুজন ও তার মামা মো. ইলিয়াস।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে ভোলা জেলা ও দায়রা জজ শরীফ এ. এম. রেজা জাকের এ রায় ঘোষণা করেন।
আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ২৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় রেদোয়ান রাসেল তার বাবার হাওলাদার বাজারের মুদি দোকানে অবস্থান করছিল। তার সঙ্গে মায়ের কেনা নোকিয়া ১১০০ মডেলের একটি মোবাইল ফোন ছিল।
এ সময় মোবাইলে কথা বলার কথা বলে প্রতিবেশী সুজন তাকে দোকান থেকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে রেদোয়ান নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজ করেও তার সন্ধান পাননি।
নিখোঁজের দুই দিন পর ৩০ ডিসেম্বর স্থানীয়দের মাধ্যমে দক্ষিণ চরপাতা দারোগার খালের পাশে সিদ্দিক মালের বাড়ির সামনে এক কিশোরের মরদেহ পড়ে থাকার খবর পান পরিবারের সদস্যরা। পরে মরদেহটি রেদোয়ান রাসেলের বলে শনাক্ত করা হয়। এজাহারে মরদেহের মুখ ও গলায় আঘাতের চিহ্ন থাকার কথা উল্লেখ করা হয়।
এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ৩০ ডিসেম্বর রেদোয়ানের বাবা আব্দুল হক ভোলা সদর মডেল থানায় হত্যা মামলা করেন। তদন্ত শেষে সুজন ও ইলিয়াসকে আসামি করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। পরে ২০০৯ সালের ২৩ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা করে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
ভোলা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মো. তৈয়ব রায় ঘোষণার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সাক্ষ্যপ্রমাণ বিশ্লেষণ করে আদালত আসামিদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন।



