নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫০ শয্যার অবকাঠামো থাকলেও ৩১ শয্যার জনবল ও ব্যবস্থাপনায় চলছে চিকিৎসাসেবা। দীর্ঘদিনের জনবল সংকট, চিকিৎসা সরঞ্জামের ঘাটতি ও প্রশাসনিক সমস্যায় ব্যাহত হচ্ছে হাসপাতালটির স্বাস্থ্যসেবা। এতে ভোগান্তিতে পড়ছেন উপজেলার প্রায় দেড় লাখ মানুষ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, এক্স-রে ফিল্মের সংকটে প্রায় দেড় মাস ধরে বন্ধ রয়েছে এক্স-রে পরীক্ষা। ফলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী রোগীদের বাইরে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বা অন্যত্র গিয়ে অতিরিক্ত খরচে পরীক্ষা করাতে হচ্ছে।
প্যাথলজি বিভাগেও রয়েছে জনবল ও প্রয়োজনীয় কেমিক্যালের সংকট। ৩১ শয্যার জনবল কাঠামো অনুযায়ী মাত্র দুজন কর্মী সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। প্রতিদিন গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ জন রোগীর নমুনা পরীক্ষা করতে গিয়ে তাদের হিমশিম খেতে হচ্ছে। ডায়াবেটিস ও রক্ত পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কেমিক্যালেরও সংকট রয়েছে।
হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানি বরাদ্দ না থাকায় বিদ্যুৎ বিভ্রাটের সময় তা চালানো যাচ্ছে না। হাসপাতাল সূত্র জানায়, নতুন জেনারেটরটি পরীক্ষামূলকভাবে একদিন চালানোর পর আর চালু করা সম্ভব হয়নি। ফলে বিদ্যুৎ না থাকলে ভর্তি রোগীদের গরমে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
এ ছাড়া নতুন ভবনের প্রবেশপথে টয়লেটের নোংরা পানি জমে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। পরিকল্পিত পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় এর স্থায়ী সমাধান করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালকেরও সংকট রয়েছে। বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার সরকারি গাড়ির চালক রাকিব একই সঙ্গে অ্যাম্বুলেন্স চালাচ্ছেন। এতে জরুরি প্রয়োজনে রোগী পরিবহনেও সমস্যা হচ্ছে।
হাসপাতালটিতে বাগাতিপাড়ার পাশাপাশি লালপুর, আড়ানীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ চিকিৎসা নিতে আসেন। বিশেষ করে দরিদ্র ও নিম্নআয়ের মানুষের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র। তবে প্রয়োজনীয় জনবল, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক সুবিধার সংকটে কাঙ্ক্ষিত সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ রোগী ও স্বজনদের।
গালিমপুর গ্রামের রোগীর স্বজন তোসাদ্দেক সরকার জানান, হাসপাতালে এক্স-রে সেবা বন্ধ থাকায় তাকে বাইরে থেকে ৪০০ টাকা খরচ করে পরীক্ষা করাতে হয়েছে। রিপোর্ট নিয়ে হাসপাতালে ফিরতে দুপুর হয়ে যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে আর পাননি বলেও জানান তিনি।
এসব বিষয়ে বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সৈকত মো. রেজওয়ানুল হকের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
নাটোরের সিভিল সার্জন ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, এক্স-রে ফিল্মসহ বিভিন্ন পরীক্ষার সরঞ্জাম অর্থবছরের শুরুতে টেন্ডার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে কেনা হয়। এ কারণে অর্থবছরের শুরুতে কিছুটা সমস্যা তৈরি হয়। ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছেন তিনি।



