ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন আজ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলাটির প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন নির্ধারিত রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ে তদন্ত শেষ না হওয়ায় কয়েক দফা পিছিয়েছে প্রতিবেদন দাখিলের তারিখ। সর্বশেষ গত ২০ আগস্ট সিআইডি প্রতিবেদন জমা দিতে না পারায় আদালত আজকের দিনটি নতুন করে ধার্য করেন। এ নিয়ে মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত সংস্থা সিআইডি ১৯ বার সময় পেয়েছে।
আদালত সূত্রে জানা যায়, ২০ আগস্ট মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ছিল। ওইদিন তদন্ত কর্মকর্তা ও সিআইডির সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল কাদির ভূঞা প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি। পরে ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম প্রতিবেদন দাখিলের জন্য ২৭ সেপ্টেম্বর নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এর আগে মামলাটির তদন্ত করে গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। গত ৬ জানুয়ারি ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেয় সংস্থাটি। এতে ফয়সাল করিম মাসুদকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়। সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পীসহ আরও কয়েকজনের নামও অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়।
ডিবির ওই অভিযোগপত্রে অসন্তোষ জানিয়ে গত ১৫ জানুয়ারি মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের আদালতে নারাজি আবেদন করেন। আদালত তার আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। এরপর থেকে মামলাটির অধিকতর তদন্ত করছে সিআইডি।
ডিবির অভিযোগপত্রে বলা হয়েছিল, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে হাদিকে হত্যা করা হয়। একই সঙ্গে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করা এবং ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করাও হত্যাকাণ্ডের উদ্দেশ্যের অংশ ছিল বলে তদন্তে উল্লেখ করা হয়। এগুলো ডিবির আগের তদন্তে উঠে আসা বক্তব্য; অধিকতর তদন্তে এ বিষয়ে কী আসে, তা এখনো আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পরই জানা যাবে।
মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শেষে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে যাচ্ছিলেন হাদি। দুপুর ২টা ২০ মিনিটের দিকে পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট এলাকায় তার বহনকারী অটোরিকশা পৌঁছালে মোটরসাইকেলে থাকা দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি করে পালিয়ে যায়।
গুলিতে গুরুতর আহত হাদিকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ১৫ ডিসেম্বর সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
হাদিকে গুলি করার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় হত্যাচেষ্টা মামলা করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে হাদির মৃত্যুর পর মামলাটি হত্যা মামলায় রূপ নেয়।
এখন সবার নজর সিআইডির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে। প্রতিবেদন দাখিল হলে মামলায় নতুন কোনো তথ্য, আসামির বিষয়ে পরিবর্তন কিংবা আগের অভিযোগপত্র সম্পর্কে তদন্ত সংস্থার নতুন কোনো অবস্থান এসেছে কি না, তা জানা যাবে।



