রাজধানীর ইসিবি চত্বরের দক্ষিণ মানিকদীতে নিউগিনি প্রপার্টিজ আবাসন প্রকল্পে অবৈধভাবে প্রবেশ করে হামলা, ভাঙচুর, মারধর ও লুটপাটের অভিযোগে করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি মো. মিজানুর রহমানকে (৫৯) কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
মঙ্গলবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ক্যান্টনমেন্ট থানার উপপরিদর্শক (এসআই) সুব্রত দেবনাথের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আরিফুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন। মিজানুর রহমান এ মামলার এজাহারভুক্ত ৯ নম্বর আসামি।
ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগের উপপরিদর্শক (এসআই) তারেকুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, আদালত মঙ্গলবার একজন আসামিকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন। এ মামলায় এজাহারভুক্ত আসামি রয়েছেন ১৩ জন।
আসামিপক্ষের আইনজীবী শওকত হোসাইন মিজানুর রহমানের জামিনের আবেদন করেন। তবে আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠিয়ে জামিনের আবেদনের শুনানির জন্য আগামীকাল বুধবার দিন ধার্য করেন।
এর আগে ২৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে ডিবির গুলশান বিভাগের একটি দল পশ্চিম মাটিকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মিজানুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে।
তাঁকে কারাগারে আটক রাখার আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে মিজানুর রহমান ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। মামলার তদন্ত এখনো চলমান। তিনি জামিনে মুক্তি পেলে পালিয়ে যেতে পারেন এবং তদন্তে বিঘ্ন ঘটতে পারে—এমন আশঙ্কার কথাও আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন বলে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা।
মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, ২৬ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে নিউগিনি প্রপার্টিজ প্রকল্পের কার্যালয় ও আশপাশের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে। এ সময় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিওতেও ব্যাপক হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট চালানোর অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া প্রকল্পের আশপাশের কয়েকটি বাড়ি ও স্থাপনাও ভাঙচুর করা হয় বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। নিউগিনি প্রকল্পের প্রধান নিরাপত্তা কর্মকর্তা লিয়াকত আলী প্রথম আলোকে বলেন, ওই হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও।
এ ঘটনায় নিউগিনি প্রপার্টিজের পরিচালক সাইফুল ইসলাম ভূঁইয়া বাদী হয়ে ক্যান্টনমেন্ট থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করছে ক্যান্টনমেন্ট থানা-পুলিশ।
তদন্ত কর্মকর্তা সুব্রত দেবনাথ প্রথম আলোকে বলেন, এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং তাঁরা কারাগারে গেছেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার প্রথম তিন আসামির রিমান্ড আবেদনের শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।
মামলায় এজাহারভুক্ত আসামির সংখ্যা ১৩ জন। তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশ ও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে।



