ঢাকা মহানগর উত্তরের পল্লবী থানার ৯১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মফিজুর রহমান মামুনকে অনৈতিক কার্যকলাপ ও সংগঠনবিরোধী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
মঙ্গলবার বিএনপির সহদপ্তর সম্পাদক মুহম্মদ মুনির হোসেন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, মফিজুর রহমান মামুনকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্যপদসহ দলের সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এর আগে মঙ্গলবার প্রথম আলোতে ‘মিরপুরে তিন ভাইয়ের বাহিনী, দখলে রাখেন তিন এলাকা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। ওই প্রতিবেদনে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে মফিজুর রহমান মামুনের বিরুদ্ধে মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণের অভিযোগ তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মামুন মালয়েশিয়ায় অবস্থান করে মিরপুরে একটি বাহিনী নিয়ন্ত্রণ করেন বলে পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের দাবি। দেশে তাঁর দুই ভাই জামিল রহমান ও মশিউর রহমান ওই বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনা করেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
পল্লবী, মিরপুর-১২, সাগুফতা ও বাউনিয়া এলাকায় চাঁদাবাজি, ঝুট ব্যবসা, জমি দখল ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও মামুনের বিরুদ্ধে রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর থেকে ‘মামুন বাহিনী’র নামে জমি দখল, চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, ঝুট ব্যবসা, ডিশ ও ইন্টারনেট সংযোগ নিয়ন্ত্রণ এবং অবৈধ বস্তির ঘর থেকে ভাড়া আদায়ের মতো বিভিন্ন অভিযোগ আসছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে বলা হয়, বিদেশে থাকা চারজনকে কেন্দ্র করে মিরপুরে ‘ফোর স্টার গ্রুপ’ নামে চারটি অপরাধী বাহিনী পরিচালিত হয়। এর একটি ‘মামুন বাহিনী’, যার নেতৃত্বে মফিজুর রহমান মামুন রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, মিরপুরের বিভিন্ন এলাকায় জমি দখল ও চাঁদাবাজির একাধিক ঘটনার সঙ্গে মামুন বাহিনীর নাম এসেছে। একটি জমি দখলের অভিযোগে ভুক্তভোগী মোহাম্মদ আলী তাঁর প্রায় ২৮ কাঠা জমি দখলের অভিযোগ করেন। তবে মামুনের ভাই মশিউর রহমান চাঁদাবাজিসহ অন্যান্য অপরাধের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন।
পুলিশের তথ্যের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে মামুন গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। পুলিশ তখন জানিয়েছিল, ২০০১ সালে কিছুদিন কারাভোগের পর ২০০৪ সালে তিনি বাংলাদেশ থেকে ভারতে যান। ২০০৮ সালে পাসপোর্ট জালিয়াতি ও অবৈধ অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতে গ্রেপ্তার হয়ে ১০ বছর সাজা ভোগ করেন বলে পুলিশ জানিয়েছিল।
বাংলাদেশে ফেরার পর ২০২১ সালে গ্রেপ্তারের সময় পুলিশ জানিয়েছিল, মামুনের বিরুদ্ধে পল্লবী থানায় চাঁদাবাজি, হত্যা, মাদক, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ও ডাকাতির অভিযোগে ২৭টি মামলা, ১৫টি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং দুটি সাজা পরোয়ানার তথ্য রয়েছে। পরে জামিনে মুক্ত হয়ে তিনি বিদেশে চলে যান বলে পুলিশ সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
এ ছাড়া মিরপুরের পল্লবী থানা যুবদলের সদস্যসচিব গোলাম কিবরিয়া হত্যা মামলাতেও মামুন বাহিনীর সদস্যদের নাম এসেছে বলে প্রথম আলোর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, ওই মামলায় কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং জিজ্ঞাসাবাদে যাঁদের নাম এসেছে, তাঁদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
মিরপুরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক পরিচয়ের ব্যবহার নিয়ে বিএনপির ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার পক্ষ থেকেও কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। প্রথম আলোর প্রতিবেদনে ঢাকা মহানগর উত্তর বিএনপির আহ্বায়ক আমিনুল হকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, দলের পরিচয় ব্যবহার করে কেউ অপরাধে জড়ালে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মফিজুর রহমান মামুনকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের মাধ্যমে বিএনপি তাঁকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে সরিয়ে দিয়েছে বলে মঙ্গলবারের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।



