কুমিল্লা মহানগরীতে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযানে আলোচিত গ্যাং লিডার ইমরান হোসেন ওরফে রতনসহ ৩৭০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। অপরাধে সম্পৃক্ততা যাচাই-বাছাই শেষে ২৭৯ জনকে মুচলেকায় পরিবারের জিম্মায় ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকি ৯১ জনকে আদালতের মাধ্যমে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
শনিবার (৩ অক্টোবর) কুমিল্লার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
পুলিশ সূত্র জানায়, রতন নগরীর ছোটরা এলাকার মফিজাবাদ কলোনির আবুল কাশেমের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ফেসবুক মেসেঞ্জারে ‘রতন গ্রুপ’ বা ‘আর স্কোয়াড’ নামে একটি গ্রুপ পরিচালনা করে আসছেন বলে পুলিশের দাবি। গ্রুপটিতে ছাত্র, টোকাই ও খেটেখাওয়া মানুষসহ অন্তত ৪০ জন সক্রিয় সদস্য রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশের অভিযোগ, নগরীর ধর্মসাগর, ঈদগাহ, ফৌজদারি মোড় ও আদালত এলাকায় চুরি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি এবং ভাড়ায় জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখলের সঙ্গে গ্রুপটির সদস্যরা জড়িত। মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গেও তাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে।
পুলিশ জানায়, রতনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাসহ কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় নয়টি মামলা রয়েছে। একই অভিযানে তার সহযোগী সাইফুল ইসলামকেও (২০) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে একই থানায় বিভিন্ন অপরাধে ১০টি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এ ছাড়া ‘ক্রাইম সেটাপ’ গ্যাংয়ের শীর্ষ নেতা মো. সাব্বির ওরফে ‘পয়েন্ট সাব্বির’ (২৪) এবং রবিউল ইসলাম নবী ওরফে ‘কিং মেকার’কে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধেও কোতোয়ালি মডেল থানায় একটি করে মামলা রয়েছে।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. লুৎফর রহমান বলেন, উঠতি বয়সী কিশোররা যাতে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে, সে জন্য জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে নিয়মিত অভিযান চালানো হচ্ছে। কোনো নিরপরাধ মানুষ যাতে হয়রানির শিকার না হয়, সে বিষয়েও নজরদারি করা হচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০২২ সালের ১৯ আগস্ট কুমিল্লা নগর উদ্যানের সামনের সড়কে শাহাদাত হোসেন নামে এক কিশোর হত্যার ঘটনায় রতনের নাম আসে। ওই মামলায় র্যাব ছয়জনকে গ্রেপ্তার করেছিল। সে সময় র্যাবের পক্ষ থেকে রতনকে ‘রতন গ্রুপের’ প্রধান এবং মামলার প্রধান আসামি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি নগরীর সার্কিট হাউস মোড় এলাকায় রতন ও ‘ইগল গ্রুপের’ সদস্যদের মধ্যে সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ দুই পক্ষের ১৬ জনকে গ্রেপ্তার করে।
২০২৫ সালের ২৫ এপ্রিল নগরীর রানীর দিঘিরপাড়, তালপুকুরপাড় ও আদালতপাড়ায় কিশোর গ্যাংয়ের বিভিন্ন পক্ষের অস্ত্রের মহড়া হয়। এর পরদিন রাতে সেনাবাহিনী ও র্যাবের যৌথ অভিযানে রতনসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ১৯ সেপ্টেম্বর কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নাহিদা বেগমের ছেলে সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম (১৩) হত্যাকাণ্ডের পর ২৩ সেপ্টেম্বর থেকে কিশোর গ্যাংবিরোধী অভিযান শুরু হয়। পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পাঁচ দফার অভিযানে এ পর্যন্ত ২ হাজার ৪২ জনকে আটক করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম চার দফায় ১ হাজার ৬৭২ জন এবং পঞ্চম দফায় ৩৭০ জনকে আটক করা হয়।
এদিকে, গত ২৩ সেপ্টেম্বর একটি রাজনৈতিক মিছিলে রতনের উপস্থিতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। পরে গত বুধবার কুমিল্লা মহানগর ছাত্রদলের সহসভাপতি মো. মহসিনের সঙ্গে রতনের কথোপকথনের আরেকটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। এসব ভিডিও নিয়ে কুমিল্লায় আলোচনা চলছে।



