১৯৯৮ সালে গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে ইন্ডিপেন্ডেন্ট ইউনিভার্সিটির ছাত্র শাহীন রেজা রুবেল হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা (রিভিউ) চেয়ে করা সাবেক এসআই হায়াতুল ইসলাম ঠাকুরের আবেদনের শুনানির জন্য ২৯ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
রোববার (৪ অক্টোবর) আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক শুনানির এ দিন ধার্য করেন।
১৯৯৮ সালের ২৩ জুলাই ডিবির এসআই হায়াতুল ইসলাম ঠাকুরের নেতৃত্বে একটি দল রুবেলকে আটক করে। পরে ডিবি হেফাজতে থাকা অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় করা মামলায় বিচারিক আদালত ২০০২ সালের ১৭ জুন এসি আকরামসহ ১৩ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড এবং মুকুলি বেগমকে এক বছরের কারাদণ্ড দেন। ওই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিপক্ষ হাইকোর্টে আপিল করে।
আপিলের শুনানি শেষে হাইকোর্ট এসি আকরাম, মুকুলি বেগমসহ ১৩ আসামিকে খালাস দেন। তবে হায়াতুল ইসলাম ঠাকুরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রাখেন।
হাইকোর্টের রায়ের পর ২০১১ সালের ৯ মে রাতে কারাগার থেকে মুক্তি পান তৎকালীন ডিবির সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মো. আকরাম হোসেন। খালাস পাওয়া অন্য আসামিরা হলেন আমিনুল ইসলাম, আমির আহমেদ তারেক, নুরুল আলম, আবদুল করিম, নুরুজ্জামান, রাতুল পারভেজ, মীর ফারুক, মংশেওয়েন, আবুল কালাম আজাদ, কামরুল হাসান, জাকির হোসেন ও মুকুলি বেগম।
এরপর রাষ্ট্রপক্ষ এসি আকরামের খালাসের বিরুদ্ধে এবং হায়াতুল ইসলাম ঠাকুর তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের বিরুদ্ধে আপিল করেন। রাষ্ট্রপক্ষের লিভ টু আপিল মঞ্জুর করে ২০১৫ সালের ৩০ আগস্ট আপিল বিভাগ এসি আকরামকে সাত দিনের মধ্যে বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেন।
পরে আপিল শুনানি শেষে ২০১৭ সালের ২৮ মার্চ তৎকালীন ডিবির এসি মো. আকরাম হোসেনসহ ১৩ আসামির খালাসের রায় বহাল রাখেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এসআই হায়াতুল ইসলাম ঠাকুরের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে তার আপিল খারিজ করা হয়।
এরপর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের রায় পুনর্বিবেচনা চেয়ে রিভিউ আবেদন করেন হায়াতুল ইসলাম ঠাকুর। সেই আবেদনের শুনানির জন্য এবার ২৯ নভেম্বর দিন ধার্য করা হলো।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ১৬ জুলাই তৎকালীন ডিবির এসি মো. আকরাম হোসেন মারা যান।



